ফোনে চাঁদা দাবি ও নিরাপত্তাশঙ্কার জেরে বান্দরবান জেলা সদর থেকে থানচি উপজেলা রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পাহাড়ের দুর্গম এই উপজেলার সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, জরুরি চিকিৎসার রোগী ও পর্যটকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই রুটে সীমিত পরিসরে বাস চলাচল করলেও শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে বান্দরবান ও থানচি—কোনো দিক থেকেই যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। ফলে জরুরি কাজে জেলা সদরে যাতায়াতের প্রয়োজন থাকলেও পরিবহন না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাপ্তাহিক ছুটিতে আসা পর্যটকদের যাতায়াতেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বান্দরবান-থানচি সড়কের লাইনম্যান মংসিংনু মারমা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবান থেকে থানচিগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চালকের মুঠোফোনে একটি চক্র চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনার পর চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা সড়কে বাস চালাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা কঠিন বলে তিনি মনে করেন।
নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে বাসচালক আবদুল সালাম বলেন, “পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি সড়কে এ ধরনের চাঁদাবাজির সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। বাসমালিকেরা গাড়ি চালানোর নির্দেশ দিলেও নিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে বান্দরবান, থানচি, রোয়াংছড়ি ও রুমা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জানান, চাঁদা দাবি করা গ্রুপটির সঙ্গে তাঁদের কোনো সমঝোতা বা সমন্বয় হয়নি। সমিতির সভাপতি অসুস্থ থাকায় বর্তমানে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি আবদুল শুক্কুর মুঠোফোনে জানান, বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি সমন্বয় হয়েছিল এবং শুক্রবার থেকে বাস চলাচল শুরু হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ করতে না পারায় চালকেরা বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন। সুস্থ হয়ে ফিরে এ বিষয়ে প্রশাসনের আইনগত সহায়তা চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন