জাহাঙ্গীর আলম কাজল, নাইক্ষ্যংছড়িরঃ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা বহনকারী চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার ও পানির মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বিওপির দায়িত্বপূর্ণ পশ্চিমকুল রুহুলের দোকান-কাটাপাহাড় সীমান্তসংলগ্ন নয়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, তুমব্রু বিওপির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে একটি বড় ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়কের নির্দেশনায় তুমব্রু বিওপির বিশেষ টহলদল শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সীমান্ত থেকে প্রায় ১১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।
পরে রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন চোরাকারবারির গতিবিধি শনাক্ত করে বিজিবি।
এ সময় ৫-৬ জন বিজিবি সদস্য তাদের ধাওয়া করে এগিয়ে গেলে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে রাতের অন্ধকার ও পানির মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে লুঙ্গিতে মোড়ানো তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করে বিজিবি। ব্যাগগুলো খুলে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ বার্মিজ ইয়াবা।
গণনা শেষে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাবে এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তুমব্রু সীমান্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ইয়াবার চালান ফেলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরও বলেন,সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে ৩৪ বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বিজিবি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের বিভিন্ন চক্র মিয়ানমারের চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য আটক করে আসছে।
উদ্ধার করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজার রিজিয়ন ও রামু সেক্টরের দিকনির্দেশনায় ৩৪ বিজিবি সীমান্ত অপরাধ দমনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন