
পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি হাতে তৈরি জুয়েলারি তৈরি করে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন বান্দরবান সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্রী মোবাশসরাহ বিনতে শফিক নাঈমা। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতে মাত্র ৭ হাজার টাকা মূলধন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের হ্যান্ডমেড জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘আঁচল’। এখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নকশার অলংকার তৈরি করে নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
নাঈমা জানান, ছোটবেলা থেকেই নিজের পরিচয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। শুরুতে শখের বসে হাতে তৈরি জুয়েলারি বানানো শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে এটিকে ব্যবসায় রূপ দেন। তাঁর ভাষায়, হ্যান্ডমেড জুয়েলারি তৈরি অত্যন্ত ধৈর্য, দক্ষতা ও পরিশ্রমের কাজ। তবে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি প্রতিনিয়ত নতুন ডিজাইন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ‘আঁচল’-এ রয়েছে অ্যান্টিকের ছোট-বড় ঝুমকা, টপস, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিক অলংকার, ফ্যাব্রিকের চুড়ি, কাঠের পুঁতি দিয়ে তৈরি চুড়ি ও অলংকার, কাঠের ওপর শৈল্পিক নকশার গলার মালার সেট, পেনডেন্টসহ নান্দনিক নানা ধরনের হাতে তৈরি জুয়েলারি। প্রতিটি পণ্য নিজস্ব নকশা ও যত্নের সঙ্গে তৈরি করেন তিনি।
সব শ্রেণি-পেশা ও আয়ের মানুষের ক্রয়সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে ‘আঁচল’-এর পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ৮০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডমেড জুয়েলারি পাওয়া যায়।
নিজের উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলা, বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিজয় মেলা এবং বৃক্ষমেলাসহ বিভিন্ন আয়োজনে স্টল দিয়েছেন নাঈমা। এসব মেলায় দর্শনার্থীদের ইতিবাচক সাড়া তাঁকে আরও উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে নাঈমা বলেন, “আমার স্বপ্ন, ‘আঁচল’ একদিন শুধু একটি ব্র্যান্ড হিসেবেই নয়, বান্দরবানের পরিচয় বহনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে ‘আঁচল’-এর নাম উচ্চারিত হলে মানুষ যেন বান্দরবানকেও মনে রাখে। পাশাপাশি জেলার তরুণ-তরুণীরা চাকরির পাশাপাশি কিংবা পড়াশোনার সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীল উদ্যোগ গড়ে তুলুক। আমাদের জেলা থেকে আরও অনেক সফল উদ্যোক্তা তৈরি হোক—এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম, ধৈর্য ও সততা থাকলে ছোট একটি উদ্যোগও একদিন বড় পরিচয়ে পরিণত হতে পারে।”
জুয়েলারি তৈরির অনুপ্রেরণা সম্পর্কে তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি সৃজনশীল ও শৈল্পিক কাজের প্রতি আগ্রহী। ইউনিক ও হাতে তৈরি জুয়েলারি সবসময়ই আমার ভালো লাগত। বিশেষ করে কাঠ, প্রাকৃতিক উপকরণ, বীজ ও বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার প্রতি আগ্রহ ছিল। শুরুতে নিজের জন্য কিছু জুয়েলারি তৈরি করতাম। পরে ভাবলাম, এই সৃজনশীলতাকে যদি বান্দরবানকে তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সার্থকতা।”
তিনি আরও বলেন, “এই ভাবনা থেকেই ২০২৪ সালের শুরুতে মাত্র ৭ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ‘আঁচল’-এর যাত্রা শুরু করি। প্রথমে নিজের জন্য এবং পরিচিত মানুষের জন্য অল্প কিছু জুয়েলারি তৈরি করতাম। পরে সবার ইতিবাচক সাড়া ও উৎসাহ পেয়ে এটিকে ব্যবসায় রূপ দিই। এখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ডিজাইন নিয়ে কাজ করছি এবং ‘আঁচল’-কে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
আরো পড়ুন→মানবিক সেবার জন্যে সম্মাননা পেল রাঙ্গামাটি হিল সার্ভিস পরিবার
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন