বান্দরবানের রুমা উপজেলার পলি রেঞ্জ এখন পাহাড়খেকো ও কাঠ পাচারকারী চক্রের আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের পলি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুল। অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা তার পকেটে যায়। নিয়মিত রেঞ্জ অফিসে উপস্থিত না থাকলেও ভাগ নিতে দেরি করেন না তিনি।
সরকারি বনভূমি রক্ষা এবং পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণের মূল দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের একাংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশেই উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা, জুমচাষি ও পরিবেশবাদীদের।
জানা যায়, পলি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চলের ছড়াগুলো থেকে রাতের আঁধারে ট্রাক ও জিপে করে বালু পাচার করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, তাদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন পলি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুল। এর পাশাপাশি তার পরোক্ষ মদদে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে রেঞ্জ কর্মকর্তার যোগসাজশে পলি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চল থেকে সেগুন, গর্জন, গামারিসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির গাছ কেটে সমতলে পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
স্থানীয়দের দাবি, কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে তাদের কাঠ পাচারের অলিখিত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। দায় সারতে মাঝে মধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে নামমাত্র কিছু কাঠ জব্দ করে ‘সিজার লিস্ট’ তৈরি করা হলেও, পর্দার আড়ালে বড় বড় চালান নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়া হচ্ছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে পলি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে সংযোগে পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন→পাহাড়ের বাতিঘর:কে এস মং
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন