Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদ্বোধন করলেন এমপি সাচিং প্রু জেরী

আরাফাত খাঁন
আপডেট : April 12, 2026
Link Copied!

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন উপলক্ষে রোয়াংছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ঘিলাখেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

রোববার (১২ এপ্রিল) রোয়াংছড়ি উপজেলার বেক্ষ্যং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি, রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ূন কবীর এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শৈসাঅং মারমা হেডম্যান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কমিটির সদস্য নাজিব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

দিনের শুরুতে ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হলেও সন্ধ্যার পর শুরু হয় লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ ‘ঘিলা খেলা’। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর এই খেলাকে ঘিরে জমে ওঠে উৎসবের মূল আয়োজন। রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করবে।

আয়োজকরা জানান, বিষু উৎসব এখন আর শুধুমাত্র তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; মারমা, ত্রিপুরা ও স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।

তঞ্চঙ্গ্যা সমাজের যুব নেতারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের উৎসবে জনসমাগম ও উৎসাহ অনেক বেশি। ভবিষ্যতে এ উৎসবকে আরও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবি উৎসব তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়। ‘ফুল বিষু’র পরদিন পালিত হবে ‘মূল বিষু’, যেখানে প্রতিটি ঘরে ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’ রান্না করা হয়। আর শেষ দিনে ‘গজ্জ্যাপজ্জ্যা বিষু’র মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসব উপলক্ষে পাহাড়ের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা এখন রঙিন সাজে সেজে উঠেছে, যেখানে ভেদাভেদ ভুলে মিলেছে সব সম্প্রদায়ের মানুষ—আনন্দ আর সম্প্রীতির বন্ধনে।

আরো পড়ুন→বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার, রোহিঙ্গাসহ আটক–২