বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা আম্রকানন বৌদ্ধ পল্লীতে বড়ুয়া সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ মহাশ্মশান পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। এ সময় তিনি স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিত্তহীন বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির আমন্ত্রণে কালাঘাটা আম্রকানন বৌদ্ধ মহাশ্মশান পরিদর্শনে যান কে এস মং। পরিদর্শনকালে তিনি মহাশ্মশানের সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং এর ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
পরে তিনি কালাঘাটা আম্রকানন বৌদ্ধ পল্লীর গৌতম বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে উপাসক-উপাসিকা, দায়ক-দায়িকা, বিহার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় কে এস মং বলেন, “সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের শ্মশান ও বৌদ্ধ বিহারের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সহযোগিতার বিষয়ে আমি পাশে থাকব।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেবল উপাসনার স্থান নয়; এগুলো একটি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এসব প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে স্থানীয় জনগণ, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মতবিনিময়কালে স্থানীয়রা মহাশ্মশান ও বৌদ্ধ বিহারের ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কে এস মং তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উছোমং মার্মা, প্রকৃতি বড়ুয়া, সাংবাদিক বাবুল খাঁন, গৌতম বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, বৌদ্ধ মহাশ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় উপাসক-উপাসিকা এবং দায়ক-দায়িকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উল্লেখ্য, বিত্তহীন বড়ুয়া কল্যাণ সমিতি বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা আম্রকানন বৌদ্ধ পল্লীর একটি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন। স্থানীয় বড়ুয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কল্যাণে সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বিশেষ করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মহাশ্মশান ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন