নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে এক প্রবাসী পরিবারের রাবার ব্যবসা কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, চুরি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বাবুলের ছেলে মো. ওমর ফারুক, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাবার বাগান ও রাবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের দুই সদস্য বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় দেশে থাকা মো. ওমর ফারুক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে চাপের মুখে পরিবারের বৃদ্ধ পিতা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি মাসের ১০ এপ্রিল তাদের রাবার গুদাম থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি রাবার চুরি হয়ে যায়। এর তিনদিন পর ১৩ এপ্রিল স্থানীয় বাজারে মো. ওমর ফারুকের কাছে আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী, টাকা দিলে ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পরিবারের অভিযোগ, ১৫ এপ্রিল রাতে আজিজনগর বাজার এলাকায় এক বৈঠকের সময় হঠাৎ করে ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে অভিযুক্ত আনোয়ারুল হক মাসুমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল পুনরায় তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং মোবাইল ফোন ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে আজিজনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক মাসুমসহ, কোরবান আলি, মো. লিটন, মানিক মিয়া, মো. মজনু মিয়া ও রফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ভয়ে অনেকেই এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিকার চাইতে গেলে উল্টো আরও হয়রানির শিকার হতে হয়।
ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক মাসুম এর সাথে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করলে বলেন,আগেই ওমর ফারুক তাদেরকে হামলার পরিকল্পনা করেছিলো এবং সে পূর্বে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলো। তবে অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ব্যবসা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরো পড়ুন→আধুনিকতার ভিড়ে সাংগ্রাই আমাদের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি– কে এস মং


