কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৬ বছর বয়সী এক চাকমা তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটে ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে।
নিহত তরুণীর নাম মায়া চাকমা (১৬)। তিনি উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেলখোলা গ্রামের বাসিন্দা ক্যউছিং চাকমার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে মায়া চাকমা রামু উপজেলার পশ্চিম পাড়া মেরোরুওয়া গ্রামে সাধন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে বাবার সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। তখন তিনি স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পহেলা বৈশাখের আগে বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও বাড়ির মালিক নিজেই তাকে পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়ে আরও কয়েকদিন থাকার অনুমতি নেন।
ঘটনার দিন সকালে মায়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি তার বাবা। পরে বিকেল আনুমানিক ৪-৫টার দিকে মায়ার খালার মোবাইলে ওই বাড়ি থেকে ফোন করে দ্রুত সেখানে যাওয়ার জন্য বলা হয়।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মায়ার মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যা।
স্বজনদের অভিযোগ, মায়ার গলায় ফাঁসের কোনো সুস্পষ্ট আলামত ছিল না। তাদের ধারণা, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত সাধন বড়ুয়ার এক ছেলে সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন। স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, ওই ছেলেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি মামলা না করার জন্য তাদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি আর্থিক দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে মামলা না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় মায়া চাকমার পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


