পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি চাঁন্দের গাড়ি প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা ৩৬ জোন।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি পথে যাতায়াতের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, বাসাত্লং পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়াসহ আশপাশের পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা। এসব পাড়ার বম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মার্মা, তঞ্চংগ্যা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ, চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের জরুরি হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে যানবাহনের অপ্রতুলতা ছিল অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। ইতোপূর্বে, রুমা- মুননুয়াম পাড়া রুটে নিয়মিত কোন গাড়ী চলাচল করেনি, ফলে স্থানীয় জনগণকে উচ্চ ভাড়া প্রদান করে তাদের
কৃষিজাত পণ্য পরিবহণ, বাজারে যাতায়াত, রোগী পরিবহন করতে হতো। ফলে, দীর্ঘদিন যাবৎ পাড়াবাসী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছিল।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা নিরসন এবং জীবনযাত্রার মানোনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মহোদয় মুননুয়াম পাড়া পরিদর্শনকালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, রুমা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের জন্য ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে একটি চাঁন্দের গাড়ি প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বিকেলে মুননুয়াম পাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্যাম্পের আওতাধীন স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের হাতে গাড়িটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাড়িটি মূলত মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া ও বাসাত্লং পাড়ার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আরও ১০টি পাড়ার বাসিন্দারা প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিবহন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে গাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, এখন থেকে কৃষিপণ্য ও নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত চরম দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাড়িটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটির মাধ্যমে গাড়িটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করা হবে, যাতে ১৪টি পাড়ার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
এদিকে, স্থানীয় পাড়াবাসীরা জানান, সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সহযোগিতার ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রুমা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন