বান্দরবানের সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক। থানায় যোগদানের পর থেকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
তাঁর দায়িত্ব পালনকালে থানা পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের মতো কার্যক্রমে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও তিনি বান্দরবান জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। এ নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় যোগদানের পর একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারী এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থানা পুলিশ। ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ঘটনার তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর ছিল।
অন্যদিকে, উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকায় স্ত্রী হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ। দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তারের এ ঘটনা অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা ও কার্যকর পদক্ষেপের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মাদক পাচার প্রতিরোধ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওসি মোজাম্মেল হকের তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন অভিযানে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৩ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, ২ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের এসব অভিযান সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় যোগদানের পর থেকে ওসি মোজাম্মেল হক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ থানার সার্বিক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনায় গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
একটি সীমান্তবর্তী ও দুর্গম উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে এসব ক্ষেত্রে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয়তা থানা পুলিশের কার্যক্রমে গুরুত্ব পেয়েছে। দায়িত্ব পালনের এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া তাঁর পেশাগত কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেপ্টেম্বর মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যসহ সার্বিক কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে ওসি মোজাম্মেল হককে বান্দরবান জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় যোগদানের পর থেকে একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি। ধারাবাহিক এ স্বীকৃতি তাঁর দায়িত্বশীলতা, পেশাদারত্ব এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের কার্যক্রমের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন