
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, প্রকৌশলী না হয়েও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো.নজরুল ইসলামকে এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিমাণ ১৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিধিমালা অনুসরণ না করে প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনার সাতটি প্যাকেজকে ৭৯টি লটে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ক্রয় পরিকল্পনাটি সাতটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। এসব প্যাকেজের গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য সাত লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
তবে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক পরবর্তীতে এসব প্যাকেজকে ৭৯টি লটে ভাগ করেন। এ ধরনের বিভাজনের ক্ষেত্রে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের (HOPE) অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (OTM) প্রতিটি লটে দরপত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র দুই থেকে তিনটি। চূড়ান্তভাবে প্রতিটি লটে দরপত্র জমা পড়ে মাত্র দুটি করে। আইএমইডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এত কম সংখ্যক দরদাতার অংশগ্রহণ প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে বিবেচনার সুযোগ দেয় না। একই সঙ্গে প্রতিটি লটে মাত্র দুটি করে দরপত্র জমা পড়ায় প্রকৃত বাজারদরের প্রতিফলন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এভাবে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে জানতে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ও বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন, “প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা প্রকৌশলী না হয়েও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করার কথা নয়। তবে অনেক সময় ক্ষমতাবলে এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ে তদবিরের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।”
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন