নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫৫০৪ জন

বান্দরবান চিম্বুকের ম্রো জনগোষ্ঠীর শস্যপূজা উৎসব অনুষ্ঠিত

Copy Link

নিজস্ব প্রতিবেদকঃবান্দরবানে সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট এর ব্যবস্থাপনায় ম্রো সম্প্রদায়ের শস্যপূজা ও লোকসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুমচাষের জন্য জঙ্গলকাটা শুরু হয়। জঙ্গলকাটার আগেই জুমিয়াদের বিশ্বাস অনুযায়ী জুমের দেবতার উদ্দেশ্যে সম্মান জানানো হয়।করা হয় পূজার মাধ্যমে প্রার্থনা। তবে পাহাড়ে ১১ ক্ষুদ্র – নৃগোষ্ঠীর লোকজন এ শস্যপূজা একেকভাবে পালন করে থাকে।

বৃহস্পতিবার (২৯ফেব্রুয়ারী) সকালে বান্দরবান জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ে ম্রোলং পাড়ায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শুরুতে জুমচাষের শস্যপূজা প্রার্থনার করা হয়। প্রদর্শন করা হয় ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি খেলাধুলা। এরপর লোকসঙ্গীত ও লোকনৃত্য পরিবেশন করে ম্রো শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মো.আতাউর রহমান বলেন, অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এখনও পাহাড়ে এ ধরণের সংস্কৃতি চর্চা রয়েছে এটা সবার জন্য আনন্দের বিষয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউ এ ধরণের সংস্কৃতি চর্চা করে যাচ্ছে।আমি নিজেই এ ধরণের অনুষ্ঠান এভাবে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি। এদেশের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ও কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,সমতলের পাশাপাশি পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ভাষা,সংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও ভাষা সংরক্ষণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট গবেষণার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করবে এবং যেসব ভাষা বা সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে।

জেলা পরিষদের সদস্য সিঅং খুমীর সভাপতিত্বে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের সহকারী পরিচালক লীলা মুরুং এর উপস্থাপনায় অনুষ্টানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মঙ্গল কুমার চাকমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের (কেএসআই) পরিচালক মংনুচিং মারমা, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণা কর্মকর্তা কাইংওয়াই ম্রো প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চিম্বুক পাহাড়ের কয়েকটি পাড়ার ম্রো বাসিন্দা অংশ নেন।

মূলত, জুমের নতুন ফসল ও আগামী জুমের ফলন ভালো হওয়ার জন্য দেবদেবীর উদ্দেশ্যে ম্রো সম্প্রদায়ের লোকেরা এই চাময় অনুষ্ঠানটি করে থাকে।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা

গর্জনিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডিরেক্টর বডির সভা অনুষ্ঠিত

নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল

বালাঘাটায় ২০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন

কে এস মং–এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য আবারও চট্টগ্রাম গেলো ১০০ রোগী

থানচিতে বিজিবির অভিযানে জেএসএস সদস্য আটক

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাচারের সময় ১০ বার্মিজ গরু জব্দ

“রেংমিটচ্য” ভাষায় কথা বলা ৬ বক্তার একজন প্রয়াত,অসুস্থ ২

বান্দরবানের রুমায় পাইন্দু খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

১০

দায়িত্ব ছাড়তে বিলম্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পরাক্রম চাকমা

১১

১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পে বৃক্ষরোপণ

১২

যোগাযোগ ও উন্নয়নে পিছিয়ে বান্দরবানের পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি

১৩

‎বদলি আদেশ জারির পরও দায়িত্ব ছাড়েননি নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা

১৪

চকরিয়ায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজিবির মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

১৫

রুমার দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

১৬

আলীকদমে ত্রাণ নিতে আসা ১ হাজার পরিবারকে পরিবহন সুবিধাও দিলো খুইল্যা মিয়া ফাউন্ডেশন

১৭

শনিবার খুলছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা জারি

১৮

বিনামূল্য চক্ষু শিবির থেকে বাছাইকৃত ১০০ রোগীকে ২০ জুলাই পাঠানো হবে চট্টগ্রামে

১৯

রাঙামাটিতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ অনুষ্ঠানে এমপি দীপেন দেওয়ান

২০
error: Content is protected !!