‘সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো দেশের কোনো জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রীয় চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বাঙালি হিসেবে পরিচিত করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তৎকালীন সংসদে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এম এন লারমা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তিনি বাঙালি নন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ নিজেদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেননি।
আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশ কেবল বাঙালির রাষ্ট্র নয়, কেবল মুসলমানের রাষ্ট্রও নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত থাকলে সমগ্র বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা শুধু পাহাড়ের মানুষের সমস্যা নয়, এটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে—এমন ধারণা ভুল। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে এবং তাদের আবার অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং পাহাড়ের মানুষের ভূমির অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন