নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১২০ জন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিন কমিটি বাতিলের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ

Copy Link

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। একই সঙ্গে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। ‘সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন বা কেবল নিরাপত্তাজনিত সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। তাই নিরাপত্তা ও আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুলসহ অন্যরা।

‘পাহাড়ের মানুষকে আবার অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো দেশের কোনো জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রীয় চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বাঙালি হিসেবে পরিচিত করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তৎকালীন সংসদে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এম এন লারমা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তিনি বাঙালি নন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ নিজেদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেননি।

আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশ কেবল বাঙালির রাষ্ট্র নয়, কেবল মুসলমানের রাষ্ট্রও নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত থাকলে সমগ্র বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা শুধু পাহাড়ের মানুষের সমস্যা নয়, এটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে—এমন ধারণা ভুল। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে এবং তাদের আবার অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং পাহাড়ের মানুষের ভূমির অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।

‘চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই সমস্যার সমাধানের পথ’

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হলো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও ২৬ দফা বৈঠকের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। দলটি একসময় চুক্তি বাতিলের কথা বললেও ক্ষমতায় থাকাকালে তা বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটির সমালোচনা করে শামসুল হুদা বলেন, এসব কমিটি মূলত আমলা ও গোয়েন্দা-নির্ভর। এ ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে সরকার ‘রেইনবো নেশন’-এর কথা বলছে, অন্যদিকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ, সার্কেল চিফসহ পাহাড়ের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে।

‘রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের’

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, দেশে আন্দোলন হচ্ছে, সরকার পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব অর্থে অনেক কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। বিশেষ করে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।তিনি বলেন, রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং সেই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। আদিবাসীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ১৯৯৭ সালের চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে হবে।

‘পাহাড়কে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখা যাবে না’

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চুক্তি নয়; এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি। তাই এর বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি সমস্যা। অথচ দীর্ঘদিনেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি কার্যক্রম শুরু করলে পাহাড়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও জটিল হতে পারে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পাহাড়কে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। সেখানকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

‘২৯ বছরেও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি’ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ভারতে অবস্থানকালে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আদিবাসী জুম্ম শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরে আসার পর সমস্যার সমাধান না হয়ে নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর অতিবাহিত হলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাহাড়ের জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তিন কমিটি গঠনে উদ্বেগসভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জুম্ম জনগণের অধিকার অস্বীকার করে সামরিকায়নের মাধ্যমে দমন-পীড়নের ফলে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ধারাবাহিক ২৬টি বৈঠকের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৯ বছর পরও এর মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে পাহাড়ের জনগণের প্রত্যাশা ছিল চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে না এবং অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কার্যপরিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইন ও বিধি সংস্কারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুটি কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা ডিজিএফআই থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, অতীতে সামরিক ও বেসামরিক আমলা-নির্ভর শাসনের ফলে পাহাড়ে সংঘাত, রক্তপাত, বিভেদ ও বিদ্বেষ বেড়েছে।

১৯৯৭ সালের চুক্তি ছিল সংঘাত থেকে বেরিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক উদ্যোগ উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব জোরদারের মাধ্যমে ‘উল্টো পথে যাত্রা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আট দফা দাবিসমাবেশ থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

দাবিগুলো হলো—

১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

২. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করতে হবে।

৩. চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করতে হবে।

৫. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।6. বিধিমালা প্রণয়নসহ দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে।

৭. অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন করতে হবে।

৮. পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যাসহ সব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারকে দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিন কমিটি বাতিলের দাবিতে নাগরিক সমাবেশপার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। একই সঙ্গে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। ‘সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন বা কেবল নিরাপত্তাজনিত সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। তাই নিরাপত্তা ও আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুলসহ অন্যরা।‘পাহাড়ের মানুষকে আবার অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না’জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো দেশের কোনো জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রীয় চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বাঙালি হিসেবে পরিচিত করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তৎকালীন সংসদে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এম এন লারমা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তিনি বাঙালি নন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ নিজেদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেননি।আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশ কেবল বাঙালির রাষ্ট্র নয়, কেবল মুসলমানের রাষ্ট্রও নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত থাকলে সমগ্র বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা শুধু পাহাড়ের মানুষের সমস্যা নয়, এটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে—এমন ধারণা ভুল। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে এবং তাদের আবার অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং পাহাড়ের মানুষের ভূমির অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।‘চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই সমস্যার সমাধানের পথ’এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হলো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও ২৬ দফা বৈঠকের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। দলটি একসময় চুক্তি বাতিলের কথা বললেও ক্ষমতায় থাকাকালে তা বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটির সমালোচনা করে শামসুল হুদা বলেন, এসব কমিটি মূলত আমলা ও গোয়েন্দা-নির্ভর। এ ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে সরকার ‘রেইনবো নেশন’-এর কথা বলছে, অন্যদিকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ, সার্কেল চিফসহ পাহাড়ের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে।‘রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের’বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, দেশে আন্দোলন হচ্ছে, সরকার পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব অর্থে অনেক কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। বিশেষ করে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।তিনি বলেন, রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং সেই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। আদিবাসীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ১৯৯৭ সালের চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে হবে।‘পাহাড়কে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখা যাবে না’সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চুক্তি নয়; এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি। তাই এর বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের।তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি সমস্যা। অথচ দীর্ঘদিনেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি কার্যক্রম শুরু করলে পাহাড়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও জটিল হতে পারে।রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পাহাড়কে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। সেখানকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।‘২৯ বছরেও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি’ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ভারতে অবস্থানকালে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আদিবাসী জুম্ম শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফিরে আসার পর সমস্যার সমাধান না হয়ে নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর অতিবাহিত হলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাহাড়ের জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।তিন কমিটি গঠনে উদ্বেগসভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে।তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জুম্ম জনগণের অধিকার অস্বীকার করে সামরিকায়নের মাধ্যমে দমন-পীড়নের ফলে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ধারাবাহিক ২৬টি বৈঠকের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৯ বছর পরও এর মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে পাহাড়ের জনগণের প্রত্যাশা ছিল চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে না এবং অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কার্যপরিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইন ও বিধি সংস্কারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।দুটি কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা ডিজিএফআই থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, অতীতে সামরিক ও বেসামরিক আমলা-নির্ভর শাসনের ফলে পাহাড়ে সংঘাত, রক্তপাত, বিভেদ ও বিদ্বেষ বেড়েছে।১৯৯৭ সালের চুক্তি ছিল সংঘাত থেকে বেরিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক উদ্যোগ উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব জোরদারের মাধ্যমে ‘উল্টো পথে যাত্রা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।আট দফা দাবিসমাবেশ থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।দাবিগুলো হলো—1. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।2. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করতে হবে।3. চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।4. চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করতে হবে।5. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।6. বিধিমালা প্রণয়নসহ দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে।7. অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন করতে হবে।8. পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যাসহ সব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে হবে।সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারকে দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাহাড়ের মানুষকে আবার অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা যাবে না: মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান

১

রাঙামাটিতে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে মোবাইল কোর্ট

২

রাঙামাটিতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এবিসিসহ ৩ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

৩

পাহাড়ে ২৪ বছর ধরে গাছ টানছে শিকলে বন্দি বাহাদুরসহ আট হাতি

৪

রাঙ্গামাটিতে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

৫

ঘুমধুম সীমান্তে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

৬

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ প্রমীলা কাবাডি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন জুরাছড়ি

৭

সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালানো থানচির সেই শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা

৮

লামায় অবৈধ ইটভাটায় পৃথক অভিযানে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

৯

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিন কমিটি বাতিলের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ

১০

থানচিতে পর্যটকবাহী ল্যান্ডক্রুজার উল্টে নিহিত দুই, আহত ৫

১১

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে বান্দরবান ভ্রমণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

১২

আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিশুর প্রথম শিক্ষক মা, সুরক্ষার হাতিয়ার খেলাধুলা: পার্বত্য মন্ত্রী

১৩

নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

১৪

পার্বত্য তিন কমিটি বাতিলের দাবিতে নাগরিক সমাবেশের ডাক দিয়েছে পিসিসিবিএ

১৫

সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টে সদর উপজেলার শিরোপা জয়

১৬

জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসায় শায়খ জয়নুল আবেদীন আল-কাদেরীকে সম্মাননা

১৭

নতুন দায়িত্ব পেলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

১৮

সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএস সংঘাতে শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় পিসিসিপির নিন্দা

১৯

দেশজুড়ে দখল-চাঁদাবাজি ও হামলা নিয়ে ৩৮ নাগরিকের উদ্বেগ

২০
error: Content is protected !!