নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫৫৬২ জন

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-এনআরসির প্রতিবাদে এবার গণ আন্দোলনে মমতা

Copy Link

রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু মহামিছিল শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, পিছু হঠার কথা ভাবছেনই না তিনি।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন(সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে সুর আরও কড়া করে সোমবার মমতার ঘোষণা, ‘আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে কার্যকরী করতে হবে ওই আইন। নাম না করে রাজ্যপালকেও তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে বিজেপি শাসিত অসাম নিয়ে ভাবুন’ মন্তব্য মমতার।

সিএবি সংসদে পাশ হওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা এবং হাওড়া জুড়ে তিন দিন মহামিছিল করবে তৃণমূল। কথা মতো সোমবার রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তিনি। সাথে ছিল বিশাল মিছিল।

মিছিল শেষ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে ভাষণ দেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএএ এবং এনআরসি যে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকরী হতে দেবেন না, সে কথা আগে থেকেই নানা মাধ্যমে বলছিলেন মমতা। এ দিনের ভাষণে আরও জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে সিএএ বা এনআরসি কিছুতেই কার্যকরী করতে দেবেন না।

‘আমরা বাংলায় আছি। এখানে এনআরসি করতে হলে, আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হবে, এখানে সিএবি করতে হলে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হবে,’— এই ভাষাতেই এ দিন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা।

তার সরকার ফেলে দিয়ে যদি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টাও হয়, তা হলেও তিনি পিছু হঠবেন না— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন খুব স্পষ্ট করে এই বার্তাও দিয়ে দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি ও সিএবি’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ -ছবি : এএফপি
তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো বিজেপি নেতা বলতে শুরু করেছেন, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন কেন জারি হবে না? আমাদের সরকার ফেলে দেবেন? ফেলে দিন। কিন্তু ইজ্জতের জন্য যখন লড়তে নেমেছি, তখন মাথা নত করব না।’

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের নাম এ দিন নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার ইঙ্গিত বেশ স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন, ‘এখানে আর একজন বড় বিজেপি নেতা এসেছেন। বলছেন— সাবধান করে দিচ্ছি, কেন অশান্তি হচ্ছে? আমি বলেছি, আগে আসামকে গিয়ে বলুন। সেখানে বিজেপির সরকার রয়েছে, তাদের বলুন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে সব সময়ই রাজ্যের বিষয় এবং সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের কোনও চেষ্টা যে তিনি পছন্দ করেন না, তা আগেও অনেক বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। গত চার দিনে রাজ্য জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেও যে তিনি সেই অবস্থানেই অনড় রয়েছেন, মমতা এ দিন তা-ও বুঝিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসা করছে, সিআইএসএফ লাগবে? বিএসএফ লাগবে? আমি বলেছি, কিচ্ছু লাগবে না। আমাদের পুলিশই যথেষ্ট।’ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এবং পুলিশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামলে নেবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই— এই বার্তাই এ দিন দিতে চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নাগরিকত্ব আইন নতুন করে তৈরি করার কোনও প্রয়োজন ছিল না— এ কথাই এ দিন জোর দিয়ে বলতে চেয়েছেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন। জমায়েতের উদ্দেশে এ দিন তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা ভোট দেন না? আপনাদের নাম ভোটার তালিকায় নেই? আপনাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়ে না? তা হলে আবার কিসের নাগরিকত্ব আপনাকে দেবে?’

অশান্তির বিরুদ্ধেও এ দিন বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্রেন বা সরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেওয়া বা রাস্তা অবরোধ করার বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, যাঁরা অশান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁরা বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

সিএএ এবং এনআরসি প্রত্যাহার করতেই হবে— কেন্দ্রীয় সরকারকে এ দিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। তার কথায়, ‘যত ক্ষণ না প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তত ক্ষণ আমরা রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাব। মনে রাখবেন, কেউ না থাকলেও, আমরা থাকব।
সূত্র : আনন্দবাজার

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

Казино Sultan Games – Регистрация, бонусы и быстрые выплаты

Vegas Plus casino en ligne France – machines à sous

Пин Ап Казино Официальный сайт | Pin Up Casino играть онлайн – Вход, Зеркало

7к казино вывод выигрышей

1win Azərbaycan – bukmeker və kazino

লামায় গণধর্ষণ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার–৩

লামায় নতুন ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে গণশুনানি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন রাশেদুল হক

নাইক্ষ্যংছড়িতে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

নাইক্ষ্যংছড়িতে মতবিনিময় ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১০

প্রকাশিত সংবাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ

১১

প্রকৌশলী নন, তবুও প্রকল্পের পিডি নজরুল ইসলাম: আইএমইডি প্রতিবেদনে বেরিয়ে এলো একাধিক অনিয়ম

১২

মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি

১৩

মাদক মামলার আসামিদের জামিন নিয়ে এমপি দীপেন দেওয়ানের কঠোর বার্তা

১৪

রোয়াংছড়ির কৃতিসন্তান মাওসেতুং আজ জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন

১৫

ছাত্রদল, পরে বিএনপি থেকে বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন তুষার

১৬

নাইক্ষ্যংছড়িতে ২১৫ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছ পুলিশ

১৭

সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য থেকে আবারও পরিষদে লুসাই মং

১৮

দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, সরকার জনগণের সেবক: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

১৯

সদর উপজেলা বিএনপি নেতা চনু মং এখন বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য

২০
error: Content is protected !!