প্রাইম তঞ্চঙ্গ্যাঃ শনিবার (২ মে) বান্দরবানের সদর উপজেলায় ডুলুঝিড়ি পাড়ায় অনুষ্ঠিত হলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন—“বটবৃক্ষের গল্প”, যেখানে প্রজন্মের মেলবন্ধনের মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সংলাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউট পরিচালক নুক্রাচিং মার্মা , Green milieu সকল কর্মী, বান্দরবানের আদিবাসী সকল ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি বান্দরবান ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার অজিত তঞ্চঙ্গ্যা ও উপস্থিত ছিলেন তঞ্চঙ্গ্যা উবাগীত শিল্পী লবক তঞ্চঙ্গ্যা । অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ও উইমেন অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বটবৃক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রাচীন জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা। আয়োজকরা জানান, আদিকাল থেকেই বটবৃক্ষ শুধু একটি ছায়াদানকারী গাছ নয়, বরং এটি ছিল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং নবীনদের কৌতূহলের সমন্বয়ে একসময় বটতলা হয়ে উঠেছিল শিক্ষার এক প্রাণবন্ত ক্ষেত্র।
তবে আধুনিকতার প্রভাবে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন , বর্তমান প্রজন্ম ক্রমেই শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় “বটবৃক্ষের গল্প” উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য পুরনো ঐতিহ্য ও জ্ঞানচর্চাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ, আন্তঃপ্রজন্মগত সংযোগ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউট পরিচালক : নুক্রাচিং মার্মা জানান, এই উদ্যোগ কেবল জ্ঞান বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করে তুলবে। বটবৃক্ষের শীতল ছায়ায় দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যের শিকড়ে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গ্রীন মিলিউ যুব অর্গানাইজেশন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন , এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকারে পরিচালিত হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাদের সংস্কৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।
অনুষ্ঠানের একটি বার্তায় বলা হয় , “পবিত্র বৃক্ষের নিচে প্রতিটি কণ্ঠ খুঁজে পায় তার শিকড়, আর প্রতিটি স্বপ্ন খুঁজে পায় তার ডালপালা”—যা পুরো আয়োজনের মূল চেতনাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে।


