বান্দরবান প্রতিনিধিঃ সিরাক-বাংলাদেশ এর ‘ইয়ুথ ক্যাটালিস্ট’ প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু-সহনশীল যৌন ও প্রজনন সেবা উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বান্দরবানে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বান্দরবান হলিডে ইন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার আয়োজন করে সিরাক-বাংলাদেশ। ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এবং সুইডিশ উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা সিডা এর সহায়তায় সিরাক-বাংলাদেশ এই জেলা পর্যায়ের কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন করে।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা জলবায়ু-সহনশীল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (SRHR) ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যকরভাবে প্রদান করতে পারেন।
বান্দরবান জেলার সরকারী বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ২০ জন সেবাপ্রদানকারী যেমন SACMO, মিডওয়াইফ, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা: লেলিন তালুকদার ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত।
এছাড়াও সেশন পরিচালনা করেন চাঁদপুর নার্সিং কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাকটর রিভা তঞ্চঙ্গ্যা ও জেপাইগো জেলা এস আর এইচ আর কোর্ডিনেটর সুমথং ম্রো।
গ্রুপ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্লেষণ করেন কীভাবে বান্দরবানে বন্যা, পাহাড়ধ্বস এবং অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য জলবায়ু পরিবর্তন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার উপর প্রভাব ফেলে, এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কিভাবে সেবা অব্যাহত রাখা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: লেলিন তালুকদার বলেন, কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যেই সরকার সেবা গ্রহনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পেলেই মানুষের এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। সেজন্য সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সৃষ্ট দূর্যোগে স্বাস্থসেবার মান যেনো বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সেবাপ্রদানকারী হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব যথাযথ ভাবে সেবা দেওয়া ও সেবা নিতে নারী পুরুষ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদান করে সেবা কেন্দ্রে নিয়ে আশা। সেবাকেন্দ্রগুলো সব শ্রেনী পেশার মানুষদের প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও সেবা প্রদানে বদ্ধ পরিকর।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সিরাক-বাংলাদেশের এডভোক্যাসি স্পেশালিস্ট মিজানুর রহমান আকন্দ ও সিরাক বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার লুতফা পাঠান।
অংশগ্রহণকারীরা গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে সার্ভিস ডেলিভারিতে চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন এবং জলবায়ু-সহনশীল সমাধান প্রস্তাব করেন।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো.ইমরান হোসেন, ডেপুটি ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স ও অ্যাডমিন) সিরাক-বাংলাদেশ।
এই কর্মশালাটি বান্দরবানের জলবায়ু-সহনশীল SRHR সেবা উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরো পড়ুন→থানচিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপি’র র্যালি ও আলোচনা সভা


