Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

বান্দরবানে শিফট ক্যাম্পেইন পরিচিতি কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সুফল চাকমা
আপডেট : February 25, 2026
Link Copied!

“প্রকৃতিকে সম্মান করলে সমাজ উপকৃত হবে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে শিফট (SHIFT) ক্যাম্পেইনের পরিচিতি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটায় সদর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীল পর্যটনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা ও স্থানীয় বসতিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় শৈল প্রপাত সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী আকর্ষণকারী স্থানগুলোর একটি। পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ—বিশেষ করে যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা—গুরুতর পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষত নারী উদ্যোক্তা ও পর্যটননির্ভর আদিবাসী সম্প্রদায়, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, খাদ্য প্যাকেট ও অন্যান্য আবর্জনার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, পানির উৎস দূষিত হচ্ছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা

SHIFT ক্যাম্পেইন, যা SOWCCHAR প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত, যুবসমাজ ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা, দায়িত্বশীল পর্যটন প্রচার এবং পর্যটকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

শৈল প্রপাতকে কেন্দ্রীয় কর্মস্থল হিসেবে নির্বাচনের কারণগুলো হলো—এটি বান্দরবানের অন্যতম দর্শনার্থীপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র:স্থানীয় বসতিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি বাসিন্দাদের ওপর পড়ে;কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নেই;পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা;স্থানীয়দের সংগঠিত প্ল্যাটফর্মের অভাব;যুব ও নারী উদ্যোক্তাদের পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে যথাযথভাবে কাজে না লাগানো।

কর্মশালাটি Youth Development for Sustainable Bangladesh (YDSB) আয়োজনে Save the Children Bangladesh, Kingdom of the Netherlands, বিএনকেএস এবং World Vision Bangladesh এর সহযোগিতায় কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, শৈল প্রপাত এলাকায় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে পর্যটকদের সচেতন করা হবে, যাতে তারা পরিবেশ দূষণ না করেন। স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও জানান, যুবদের নিয়ে শৈল প্রপাত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, ডাস্টবিন স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, পর্যটন শিল্পকে নিয়মের আওতায় আনা এবং স্থানীয়দের মোটিভেটেড করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের স্থানীয় কমিউনিটির জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শৈল প্রপাত এলাকায় টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিএনকেএস-এর সভানেত্রী নেমকিম বম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার।

বিশেষ অতিথি, “হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুপন চাকমা, ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এনায়েত করিম, বিএনকেএস-এর উপনির্বাহী পরিচালক উবানু মারমা এবং বান্দরবান এরিয়া প্রোগ্রামের ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার। এছাড়াও কর্মশালায় মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পাড়া কার্বারী, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন এলাকার যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।