Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

বলৎকারের জন্য কার পোশাক দায়ী?

এস এম নাসিম
আপডেট : October 31, 2020
Link Copied!

সম্প্রতি দেশে ধর্ষণের মহামারি লেগেছে বলা যেতে পারে। সেই সাথে বলৎকার বা সমকামিতা থেমে নেই। বর্তমানে ধর্মীয় আলোচনা বা আলোচকের সংখ্যা বেড়েছে হাজারে হাজারে। কিন্তু অপরাধের পরিমাণ কতটুকু কমেছে সেটা ভাবনার সময় হয়তো এসেছে। অনেক বক্তা ধর্ষণের জন্য নারীর দেহ, সৌন্দর্য ও পোশাককে দায়ী করে আলোচনা করে থাকেন। কিন্তু বলৎকারের জন্য কার পোশাক দায়ী-সেটা কিন্তু স্পষ্ট করে কোন আলোচকই কিছু বলেন না।

কয়েকদিন আগে পেশা গত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কথা হলও একজন মায়ের সাথে। তিনি জানালেন এক ভয়ংকর তথ্য। তার তিন ছেলে, বাবার খুব ইচ্ছা খুব ইচ্ছে ছেলেকে আলেম বানাবেন। উনার জানাজার ইমামতি করবেন। কত পবিত্র আবেগ মা এর চোখেমুখে। ছেলের ভালো লেখাপড়ার জন্য,আরবি ভালো বুঝার জন্য বাড়িতে একজন হুজুর লজিং রাখি। একদিন বাড়িতে মেহমান আসায় ছেলেটাকে হুজুরের সঙ্গে থাকতে দেয়। আর এটাই কাল হলও আমার।

সেদিন সকালে ছেলেটি আমার কাছে এসে কাঁদতে লাগল। অনেক জিজ্ঞাসার পর বলল ,হুজুর আমার সাথে…….করছে। সেই থেকে ছেলেটি আমার কেমন যেন মনমরা হয়ে গেছে। ছেলের মনমরা ভাব দেখে পরিবারের মান সম্মান, বাচ্চার সম্মান এর কথা ভেবে এখন স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি। বলেছি হুজুর আর হতে হবে না।

এটা গেল একজন মায়ের কথা এবার আসি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার চিত্র।

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল কোরআন কওমী মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ করেছে এগারো বছর বয়সী শিক্ষার্থী। বলাৎকারের শিকার ওই মাদরাসা ছাত্রের পরিবার জানায়, গত ১৫ দিন ধরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মাদরাসার শিক্ষক শহিদুল্লাহ ছাত্রটিকে বলাৎকার করে আসছে। ব্যথা কমাতে ছাত্রটিকে ব্যথানাশক ওষুধও সেবন করাতেন ওই শিক্ষক। ছাত্রটি মাদরাসা থেকে বাসায় চলে যেতে চাইলে তাকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাতেন। শেষবার শিশুটি বলাৎকারের শিকার হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টার সময়।

পঁয়ত্রিশ বছরের যুবক নাছির উদ্দিন। রাঙ্গুনিয়ার একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। সেই সঙ্গে পেয়েছেন মাদ্রাসার হোস্টেলের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে থাকার সুযোগ। শরীর শিউরে উঠার মতো কর্মকাণ্ড তার ।

কওমি শিক্ষক নাছির উদ্দিন সেই রকম নিষ্ঠাবানও। বিশৃঙ্খলা তার একদমই অপছন্দ। তাই তো তিনি একেবারে রুটিন করে দিয়েছেন, ওস্তাদের খেদমতে কবে কখন কোন শিশু হাজির হবে। কোন শিশু তার আহ্বানে সাড়া না দিলে তাকে বাধ্য করার জন্য কারণে অকারণে তাকে বেধড়ক মারধর করা হতো। যেহেতু সেখানে বেশিরভাগ শিশুই এতিম/দরিদ্র পরিবার থেকে আসা, শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে হুজুরের প্রস্তাবে হ্যাঁ বলা ভিন্ন কোনও উপায় থাকতো না।

এ যেন ছোট বেলায় পড়া গল্পের অত্যাচারী সিংহের মতো, যে কিনা বনের পশুদের সাথে চুক্তি করেছিল যে, প্রতিদিন একটি করে প্রাণী খাবার হিসেবে তার নিকট চলে আসলে সে আর যার তার ওপর অত্যাচার করবে না।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আদালতে পাঠানো হলে নাছির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ স্বীকার করেছে । চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন এসব তথ্য।

জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ‘স্যার, ওরা তো খুব ছোট। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি, যেন ওরা বেশি ব্যথা না পায়। আমি তো ওদের শিক্ষক, ওরা ব্যথা পেয়ে কান্নাকাটি করলে আমার খুব কষ্ট লাগে।’

২৫ অক্টোবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগে একই মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর শিক্ষকের ডাকে সায় না দেওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাশিপুর দারুল উলুম কওমি মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নাসিমকে বেধড়ক মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাজেদ হোসেন ও শাহিন হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত ২৮ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘুমন্ত এক শিশুকে ডেকে তোলে বলাৎকার করেছে আজিজুল নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। ওই শিক্ষক রুমে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করেন।সেই অভিযোগে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করেছে। আজিজুল কালিয়াকৈর উপজেলার সাহেবাবদ এলাকার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক মাদরাসা ছাত্রকে পায়ে শিকল বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে লুৎফর রহমান এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মাদ্রাসার দু’জন ছাত্রকে বলাৎকার করার অভিযোগে সেই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন।

যে গুলো উদাহরণ দিলাম সে গুলো বিভিন্ন গনমধ্যমে উঠে আসা ও পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কিছু খন্ড চিত্র। এ রকম নিয়মিত অগণিত শিশুকে শিক্ষকদের লালসার শিকারে হতে হয়। আরও গভীরে গেলে হয়তো অনেক বেশি তথ্য পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ওয়াজ মহাফিলে এই মাদ্রাসার শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা অসামাজিক, অমানবিক কাজের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে। সমাজের পাপ রোধে নারীর পোষককে দায়ী করে বুলি ছাড়ে। অর্থৎ তাদের নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে কতই না কু-প্রবৃত্তি।

যেখানেবলাৎকার বা সমকামিতা সব ধর্মেই নিষিদ্ধ। কুকুর-বিড়ালও সমলিঙ্গের কারো সঙ্গে যৌন চাহিদা পূরণে সামান্যতম আগ্রহী নয়। সেখানে মাদ্রাসার শিক্ষকদের কু-রুচিপূর্ণ লালসার থেকে রেহায় পায় না কোমলমতি কোরআন হাদিশ শিখতে আসা শিক্ষার্থীরা।

সাদ-সামুদ জাতিকে সমকামিতার অপরাধে সৃষ্টিকর্তা ধব্বংস করে দিয়ে ছিলেন। সেই একই অপরাধে কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কি ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত?

পৃথিবীতে এখনও ৪৪ টি দেশে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে জেলদন্ডের বিধান বলবৎ আছে। সৌদি, আরব, মিশরসহ অনেকে দেশে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

এস এম নাসিম, সাংবাদিক
সার-এডিটর, দৈনিক ভোরের ডাক।