নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১২৭৮ জন

ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু উদযাপন।

Copy Link

থানচি প্রতিনিধি: ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব হলো বৈসু। চৈত্র মাসের শেষ দুইদিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই তিন দিন ব্যাপী এ উৎসব পালন করা হয়। বান্দরবানের থানচিতে এই উৎসব যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বৈসুমা দিন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কে নারী পুরুষ, তরুন তরুণীদের অংশগ্রহণে বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় শতশত নারী পুরুষ, তরুন তরুণীরা গরাইয়া তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে উঠেন। বৈসু উৎসব প্রথম দিনকে বলা হয় হারি বৈসু, দ্বিতীয় দিনকে বৈসুমা এবং তৃতীয় বা শেষ দিনটিকে বলা হয় বসিকতা। মূলত পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়াই হলো উৎসবের মুল উদ্দেশ্য।

সকালে মারমা ও ত্রিপুরাদের যৌথ আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।এসময় পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বাশৈচিং চৌধুরী, বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা, বলিপাড়া ইউনিয়ন মারমা সম্প্রদায়ের যুব সমাজের সভাপতি অংচনু মারমা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট কাউন্সিল বলিপাড়া শাখা সভাপতি ভাগ্যমনি ত্রিপুরা, মারমা ও ত্রিপুরাদের সামাজিক নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, মারমা ও ত্রিপুরা সমাজের তরুন তরুণীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাসিল মরো পাড়া কারবারি ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, বলিপাড়া উপ আঞ্চলিক শাখা সভাপতি বার্নাড ত্রিপুরা বলেন, গতকাল হারি বৈসু দিনে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ত্রিপুরাদের ঘর সাজাতে শুরু করে। বসতবাড়ি, কাপড় চোপড় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও ধোঁয়া মুছা করে ফেলে। গবাদি পশুদের গোসল করানো হয় এবং ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে রাখে। মহিলারা বিন্নি চালের পিঠা তৈরি করা শুরু করে। হারি বৈসু উৎসবের দিন থেকে ত্রিপুরাদের গরাইয়া নৃত্য পরিবেশন করা শুরু করে।

সাবেক বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, বলিপাড়া উপ আঞ্চলিক শাখা সভাপতি ও ক্যচু পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রাফায়েল মনিরাম ত্রিপুরা বলেন, আজ বৈসুমা দিন, উৎসবের দ্বিতীয় দিন। পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেয়ার দিন। সবাই গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুর বেড়াবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেমাই, মিষ্টি, কলা পাতা পিঠা, বিন্নি চালের পিঠা, বাঁশের চুংগা পিঠা খাওয়া হচ্ছে। এছাড়া এদিন ত্রিপুরারা নিরামিষ ভোজন করে। কোনো প্রাণি হত্যা করেন না। কারন বছরের শেষ দিন।

হালিরাং পাড়া কারবারি পিতরাং ত্রিপুরা বলেন, আগামীকাল বসিকতা। সেই দিন বয়োজ্যেষ্ঠদের গোসল করিয়ে তরুন তরুণীরা আর্শীবাদ গ্রহণের জন্য প্রনাম করবে। কেউ কিছু না খেয়ে ফিরে যেতে না হয় সেজন্য সারাদিন ঘরের দরজা খোলা রাখা হবে। এতে গৃহস্থের কল্যাণ হবে বলে মনে করেন ত্রিপুরারা। খাওয়া দাওয়া, আনন্দ ফুর্তি করে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হবে।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবানের এক অসহায় পরিবারের নীরব কান্না দেখার কেউ নেই

১

বান্দরবানের সম্প্রীতি রক্ষায় মাহা ওয়াগোয়াই পোয়ে উদযাপনে সমন্বয়ের আহ্বান

২

স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়: সেনাবাহিনী

৩

সাজেককে ঘিরে কী হচ্ছে? প্রশ্ন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

৪

সাজেক সড়কে অবরোধ ঘিরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি

৫

রুমায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

৬

সাজেক ফেরত পর্যটকদের গাড়িবহর আটকে দিয়েছে অবরোধকারীরা

৭

পাহাড়ের মানুষের বিপদে-আপদে পাশে আছে বিজিবি: লে. কর্নেল ইয়াসির আরাফাত

৮

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে হামলার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

৯

সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে রাঙামাটিতে সচেতনতামূলক প্রচারণা

১০

খেলাধুলা পারস্পরিক সম্প্রীতি ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম: জেলা পরিষদ সদস্য চ নু মং

১১

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাঙামাটির ছেলে পুলিশ সদস্য তুহিন

১২

কেএসআই বান্দরবান-এর নতুন পরিচালক চ থুই ফ্রু

১৩

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে সিমেন্ট

১৪

পাহাড়ে প্রবারণা পূর্ণিমা ঘিরে ফানুস তৈরিতে মেতেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা

১৫

বান্দরবানে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ আহত-১৭

১৬

বান্দরবানে ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ উৎসব

১৭

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

১৮

পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় সম্মাননা পেলেন রাঙামাটির সাইমুন ইসলাম

১৯

রাঙামাটির ৪৭ পূজামণ্ডপে ২৫ লাখ টাকা সরকারি অনুদান দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

২০
error: Content is protected !!