Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

বান্দরবানে জেলা পরিষদের ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে তড়িঘড়ির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : February 16, 2026
Link Copied!

স্থানীয় খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ–এর বিশেষ বরাদ্দে নেওয়া ক্রীড়া প্রকল্প তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট স্কিমের অর্থ লোকদেখানো কিছু কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন জেলা পরিষদের এমন সিদ্ধান্ত ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন এবং শুরু হয়েছে সমালোচনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে প্রকল্পের কর্মসূচির অর্থের চেক দ্রুততার সঙ্গে অগ্রিম হস্তান্তর করা হয়। সরকারি স্কিমের অর্থ ব্যয়ে আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিধান রয়েছে কি না এবং তিন বছরের একটি প্রকল্প এত দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিন বছরের ক্রীড়া কর্মসূচি মাত্র দশদিনে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, খেলোয়াড় বাছাই, স্থান নির্বাচন, সময়সীমা নির্ধারণসহ প্রায় সব সিদ্ধান্তই এককভাবে নেওয়া হয়েছে। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের অনেকেই। তাদের মতে, কোনো নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করলে খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না; বরং বরাদ্দ অর্থ অপচয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভাবে ক্রীড়ার মানোন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। তড়িঘড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা মুঠোফোনে জানান, “প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না, আমরা কেবল এক্সিকিউশনের কাজটা করছি।”

অন্যদিকে জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্রীড়া বিষয়ক কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক উবাথোয়াই মার্মা বলেন, “তড়িঘড়ি করে কিছু করা হচ্ছে—এমন নয়। জুলাইয়ে অর্থবছর শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চেয়ারম্যানের সরাসরি তদারকিতে সব সদস্যকে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,এটা দেখে জানাতে পারবো।তবে বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি।ফুটবল প্রশিক্ষণে জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এর সম্পৃক্ততা নেই যেহেতু এই সংস্থাগুলো পরিষদের অন্তর্ভুক্ত কোনও প্রতিষ্ঠান না।ফুটবল ইভেন্ট ব্যাতিত আর কোন কোন ইভেন্ট কে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।তবে আপাতত শুধুমাত্র ফুটবল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের পিএস টু চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল মনসুর বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই, চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জুন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০ম পরিষদের ৮ম মাসিক সভায় জেলার ক্রীড়া খাতের মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে সময় বাজেট সংকট থাকায় প্রাথমিকভাবে একটি সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, এতে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আহ্বায়ক জাবেদ রেজা, ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো.ইসলাম কোম্পানী,জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার এসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক আবু তাহের টিপু,জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এর রফিকুল আলম মামুন,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য থুইসিং প্রু লুবুকে সদস্য করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি রেজুলেশন আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে,গঠিত কমিটির অধিকাংশ সদস্যই জানেন না যে জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হয়েছে কি না।বিশেষ করে থানচি ও আলীকদম উপজেলায় ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার বিষয়ে অনেকেই অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই একটি মহৎ উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করলেও বাস্তবে আহ্বায়ক ছাড়া অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা না থাকা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।