নিজস্ব প্রতিনিধিঃনাইক্ষ্যংছড়ির গহীন অরণ্যে র্যাব-১৫ এর সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমান দেশী – বিদেশী অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চারজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার;র্যাব-১৫।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা এফডিএমএন অধ্যুষিত এলাকায় / পাহাড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসা ব্যাপকহারে চালিয়ে যাচ্ছে । এর কারণে অত্র এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ সন্ত্রাসীদের ভয়ে সর্বদা আতঙ্কগ্রস্থ থাকে।
র্যাব-১৫,অত্র এলাকায় সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি জারি রাখে । ০৬ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, এর একটি চৌকস আভিযানিক দল জানতে পারে যে , কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বালুখালী নাইক্ষ্যংছড়ি রাস্তা সংলগ্ন রাবার বাগানের গহীন জঙ্গলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে । এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ অত্র এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে ।
সন্ত্রাসীদের অবস্থান অনুমান করে আভিযানিক দল রাবার বাগানের পাহাড়টি ঘিরে ফেলে।এরপর ০৭ জানুয়ারি প্রত্যুষে উক্ত স্থানে সন্দেহজনক অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়,যার মধ্যে ০২ জনের মাথায় লাকড়ির বোঝা রয়েছে ।
ঐ সময় র্যাবের অবস্থান টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সন্ত্রাসী চক্রের ০৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তাৎক্ষনিকভাবে ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশী করে তাদের মধ্যে দুইজনের নিকট হতে ০২ টি দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায় এবং বাকী দুইজনের কাছে ০২ টি জ্বালানী কাঠের বোঝা পাওয়া যায় ।
যার একটির মধ্য থেকে ০১ টি বিদেশী পিস্তল , ০১ টি স্টেনগান ও ০১ টি দেশীয় অস্ত্র এবং অন্যটির মধ্য থেকে ০৩ টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় । উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সাথে ০৫ টি ম্যাগাজিন , ১২ রাউন্ড গুলি ও ০৬ রাউন্ড খালি খোসা পাওয়া যায় ।
ঘটনার সাথে জড়িত এ চক্রের সদস্য ১। মোহাম্মদ নূর ( ৩২ ), ২। নাজিমুল্লাহ ( ৩৪ ) ৩। মোঃ আমান উল্লাহ ( ২৩ )ও ৪। মোঃ খাইরুল আমিন( ১৯ )দের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক ।
অত্র এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই অস্ত্রসমূহ অভিনব কায়দায় তারা পরিবহণ করছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


