শান্তি,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণমুখী উন্নয়নের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ বান্দরবান গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বান্দরবান ৩০০নং সংসদীয় আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১দলীয় জোটের প্রার্থী আবু সাইদ মোঃ সুজাউদ্দিন।
সোমবার (৯ফেব্রুয়ারী) রাত ৮টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার সময় তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইশতেহারে তিনি শিক্ষা,কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, পর্যটন, অবকাঠামো, পরিবেশ সুরক্ষা, প্রযুক্তি সুবিধা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রার্থী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরন নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি স্কুল-কলেজ ও আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্প্রসারণ,প্রণোদনা প্রদান এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পে রুপান্তরের উদ্যােগ নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে গ্রীণ ইকোনমিক জোন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা সদর হাসপাতালসমুহ আধুনিকায়ন এবং জেলাসদরে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালুর উদ্যােগ নেওয়া হবে।
কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সম্প্রসারণ করে বান্দরবানকে বিশ্বমানের পর্যটন শহরে রুপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বগালেক, কেওক্রাডংসহ দুর্গম পর্যটন এলাকায় যাতায়াত স্যানিটেশনও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রাকৃতিক পানির উৎস সংরক্ষণ এবং আধুনিক ফিল্টারেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড়ের উৎপাদিত বিভিন্ন ফল ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা,উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানির উদ্যােগ নেওয়া হবে। সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা হবে।
পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থান বজায় রেখে সকল সম্প্রদায়ের উৎসব রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উদযাপন এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যােগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
পাহাড় কাটা, বন উজার ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যুৎবঞ্চিত এলাকাকে জাতীয় গ্রিডের আওতায় আনার পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিতের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলাসদর থেকে সব উপজেলার সঙ্গে মানসম্মত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন, জেলা শহরের আধুনিকায়ন এবং পর্যায়ক্রমে বান্দরবানকে মেট্রোপলিটন সিটিতে উন্নীত করার উদ্যােগ নেওয়ার ঘোষণা দেন এনসিপি ও ১১দলীয় জোটের প্রার্থী।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি বান্দরবান জেলা আহবায়ক মংসা প্রু চৌধুরী, যুগ্ন আহবায়ক মে শৈ প্রু মারমা শার্লী, যুগ্ন সমন্বয়কারী এএসএম সায়েম, যুগ্নসদস্য সচিব লুক চাকমাসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
আরো পড়ুন→নির্বাচনে জয়ী হলে গণমাধ্যম সংস্কারে একগুচ্ছ পরিকল্পনা বিএনপি’র


