পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির মতো গুরুতর পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনায় বান্দরবানে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করায় জেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নামমাত্র জরিমানা পাহাড় খেকোদের আরও উৎসাহিত করবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) বান্দরবান পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকায় এক্সাভেটরের মাধ্যমে পাহাড় কাটার অভিযোগে একজন ব্যক্তিকে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে সদর উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বান্দরবান। অদৃশ্য কারণে এত কম অঙ্কের জরিমানা আরোপ করায় ঘটনাটি ঘিরে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ব্রিগেড এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা ছাত্রাবাসের পেছনে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে তা বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মোঃ আরমান ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। পরে তার নেতৃত্বে সদর উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের একটি যৌথ অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এসময় অভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সাভেটরটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতরা।
পরবর্তীতে বান্দরবান সদর উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মোঃ আরমান ভূঁইয়া এবং প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর উদ্দিন।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শেষে জায়গার মালিক পরিচয়দানকারী কমলময় তঞ্চঙ্গ্যা (৪০)–কে পাহাড় কর্তনের দায়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত–২০১০) এর ধারা ৬(খ) লঙ্ঘনের অপরাধে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বান্দরবান উপজেলা পুলিশ প্রশাসন।
তবে এক্সাভেটরের মাধ্যমে বিশাল পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের নগণ্য জরিমানা পাহাড় খেকোদের মন থেকে পরিবেশ আইনের ভয় দূর করে দেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কমলময় তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই পাহাড় কাটার ‘মহোৎসব’ চলছিল। প্রশাসনের অভিযানকে তারা স্বাগত জানালেও জরিমানার অঙ্ককে চরম হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে দায়সারা জরিমানা করলে পার্বত্য জেলায় পাহাড় কাটার প্রবণতা আরও বেড়ে যাবে।
এইদিকে এইধরনের দায়শারা অভিযানের ফলে পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বেড়েছে পাহাড় কাটার প্রবণতা, স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের লাঙ্গি পাড়া এলাকায় সড়ক নির্মাণের নামে দিনে দুপারে পাহাড় কাটার মহোৎসব চালাচ্ছে একটি চক্র। ইতি মধ্যে চক্রটি বিশাল বিশাল পাহাড় সবার করে দিয়েছে বলেও জানা গেছে। তাছাড়া পৌর এলাকার নিউ গুলশান বনরূপা কলাঘাটার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় অনবরত পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “মোবাইল কোর্টের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু সহযোগিতা করেছে। কেন এত কম জরিমানা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মোঃ আরমান ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগে পাওয়ার যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরো পড়ুন→এবার মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির তথ্য চেয়ে বিআরটিএ–কে চিঠি


