সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করে দপ্তর পুনর্বণ্টনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীরবিঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাগর-রুনি মিলনায়তনে‘ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা,বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন-এর সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।
মূল বক্তব্যে ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দীর্ঘ ২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পাহাড়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে এবং নাগরিক সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, নবগঠিত সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচিতে দেশের এক দশমাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার কাজ শুরু করেছে। সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিতে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করে দপ্তর পুনর্বণ্টনের দাবি জানান।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা বলেন, চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নম্বর ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই চুক্তির বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে গেছে। স্থায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরি বলে তিনি মত দেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে চুক্তি বাস্তবায়ন।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন।
৩. পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন দ্রুত কার্যকর করা।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন।
৫. চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারপূর্বক দপ্তর পুনর্বণ্টন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার পেলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত হবে।


