নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত “জেনারেশন গ্রিন: ভয়েসেস ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ আহবান জানান বক্তারা।
রবিবার (৮ফেব্রুয়ারী) সকালে বান্দরবান বিশ্বিবদ্যালয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) সুইডেন দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এ অনুষ্টান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ নেতৃত্ব—বিশেষ করে তরুণী শিক্ষার্থীরা—শিক্ষক, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে অংশ নেন। আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গ সমতা এবং তরুণদের নেতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। তারা তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু উদ্যোগ এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল জলবায়ু সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের ও শিশুদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে—বিশেষ করে পাহাড়ি, উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ এলাকায়। এ প্রেক্ষাপটে তরুণদের নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল জলবায়ু ও জেন্ডার ল্যাব, কুইজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং তরুণদের সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপ। তরুণরা একটি ঘোষণাপত্র ও স্মারকলিপি উপস্থাপন করে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে লিঙ্গ-সংবেদনশীল জলবায়ু কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়।
তরুণদের প্রধান দাবিগুলো হলো: পাঠ্যক্রমে পরিবেশ শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার সমতা অন্তর্ভুক্তি সবুজ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার পার্বত্য অঞ্চলে নারীর অধিকার সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর নিরাপত্তায় পর্যটন আইন কার্যকর করা, নারীদের সম্পত্তিতে সমান অধিকার, পার্বত্য শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে ক্যাম্পাসে “ভাংরি-মামা” ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বারিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বান্দরবান—এই চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে সম্পৃক্ত করে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে উদ্যােগ নেওয়া হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মহিবুল্লাহ সিদ্দীকি, রেজিস্ট্রার মো. খোরসেদ আলী, প্রক্টর মো. ওয়াহিদুর রহমান,মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার- সোমা দত্ত,এবং সমাজসেবা অফিসার সফিকুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
আরো পড়ুন→ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সম-নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি


