Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

বান্দরবান–৩০০ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইছে বিএনপির পক্ষে

আরাফাত খাঁন
আপডেট : February 8, 2026
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান–৩০০ আসনে অসাম্প্রদায়িক নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর জনপ্রিয়তা বর্তমানে তুঙ্গে। আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ায় নির্বাচনী সমীকরণ একতরফাভাবে বিএনপির অনুকূলে চলে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (সাস)-এর নির্বাহী পরিচালক আলেয়া আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, গত সাত দিনে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৪ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ভোটারই বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে জেরীর কাছাকাছি জনপ্রিয়তা রয়েছে—এমন কোনো প্রার্থী আমরা জরিপে পাইনি।”

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, জনসংহতি সমিতি নির্বাচনে অংশ না নেওয়া, দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী কে এস মং দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

জেলা সদরের বলাঘাটা এলাকার নারী ভোটার হাজেরা রাহিনূর আক্তার বলেন, “সাচিং প্রু জেরী ছাড়া বিকল্প কোনো প্রার্থী দেখছি না। তাই ধানের শীষেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বান্দরবানের একজন অসাম্প্রদায়িক নেতা।”

হাফেজ ঘোনার এলাকার ভোটার তাপসি শিকদার জানান, “আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষই জেরীকে ভোট দেবেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।”

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সাচিং প্রু জেরী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম পাড়ামহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে তিনি পথসভা, মতবিনিময় সভা ও ঘরে ঘরে ভোটার সংযোগে সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়ন ও রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা করেন বিএনপি প্রার্থী। এ সময় তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।

এসময় সাচিং প্রু জেরী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে পাহাড়ি ও বাঙালিসহ সব জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনাই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার

দিনব্যাপী এই সফরে তিনি বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি আট ভাষায় অনূদিত লিফলেট পাহাড়ি ভোটারদের মাঝে বিতরণ করেন। জেরীর ভাষ্য অনুযায়ী, “এই ৩১ দফা একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা।”

গণসংযোগ ও পথসভায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ওসমান গনি, সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস চেয়ারম্যান, সাবেক রোয়াংছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শৈসা অং হেডম্যান, সাবেক সদস্য সচিব ক্যসাইনু মার্মাসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা। তার সরাসরি প্রচারণায় অংশগ্রহণ ধানের শীষের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসংহতি সমিতি সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী কে এস মং এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম নির্বাচনের মাঠে থাকলে লড়াই হতো হাড্ডাহাড্ডি। তবে তাদের সরে দাঁড়ানোর ফলে বান্দরবান–৩০০ আসনের নির্বাচন কার্যত একতরফা হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবান–৩০০ সংসদীয় আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত সাচিং প্রু জেরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি সমর্থিত আবু সাইদ মো. সুজা উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ। ভোটারদের মতে, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে, তবে জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী।

আরো পড়ুন→নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পথসভা ও গণমিছিল