নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধিঃ যখন জাতি গভীর নিদ্রায়, ঠিক তখনই সীমান্তে নিরলস পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্যরা। দেশের এই প্রহরীর জীবন আজ নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়ে।
রবিবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) আওতাধীন রেজুআমতলী বিওপির প্রস্তাবিত টিওবি এলাকাধীন ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের পেয়ারা বুনিয়ায় টহলরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন ল্যান্স নায়েক মোঃ আক্তার হোসেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় তার দুই পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামু সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, আহত বিজিবি সদস্য আক্তার হোসেন রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) থেকে অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত টহলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় পূর্বে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি জিরো লাইনের এপারে মাইন পুঁতে রেখেছিল, যা হয়তো বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান,”বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে রামু সিএমএইচ-এ ভর্তি করে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে এ অঞ্চলে পরিত্যক্ত মাইন থাকার ঝুঁকি সবসময় থেকেই যাচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, সীমান্তের দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যরা কতটা ঝুঁকি ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন→বান্দরবানে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের সচেতনতামূলক কর্মসূচি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন