পেকুয়া (কক্সবাজার)প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছেনুয়ারা বেগম (৩৫) নামের এক পোশাক শিল্প কর্মী ও তার বৃদ্ধা মা মাহমুদা খাতুনকে(৫৫) পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বৃহষ্পতিবার (পহেলা জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা আলেকদিয়াকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মাহমুদা খাতুন ওই গ্রামের মৃত.আবুল কাসেমের স্ত্রী ও ছেনুয়ারা বেগম রাজশাহী জেলার জয়পুরহাট এলাকার মুন্না হোসেনের স্ত্রী।
ছেনুয়ারা বেগম বলেন, তিনি চট্টগ্রাম শহরে একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করেন। স্বামী অটোরিক্সা চালক। কয়েক মাস আগে পিতার বাড়িতে থাকতাম। এখন দুই সন্তান ও স্বামী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। গত সোমবার স্বামী সন্তান নিয়ে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ছয় মাস ধরে প্রতিবেশি মৃত.শাহাব মিয়ার ছেলে ফজল করিম তাকে মুঠোফোনে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। প্রায় সময় তাকে ফোন করে বিরক্ত করে। বিষয়টি তিনি সমাজের মান্যগন্য ব্যক্তিদের জানিয়েছেন। সামাজিক বৈঠকে শালিসকাররা তাকে এ ধরনের কাজে নিষেধ করে সতর্ক করেন। ফজল করিম বৈঠকে কোন সময় কোন ধরনের বিরক্ত করবেনা বলে মৌখিক মুচলেকাও দিয়েছেন।
ছেনুয়ারা আরো জানায়, গত এক মাস ধরে তাকে আবারো অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে মোবাইলে কল করে বার বার বিরক্ত করছে। অতিষ্ট হয়ে তার নাম্বারটি ব্লক লিষ্টে দিয়েছি। পরে তিনি শওকত নামের তার এক বন্ধুর মোবাইল থেকে কল করে কু-প্রস্তাব দেয়। ফজল করিনের মুঠোফোনের কথা আমার কাছে রেকর্ড আছে। এদিকে আমার স্বামী বাপের বাড়িতে আসলে ক্ষিপ্ত হয়ে গত মঙ্গলবার আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করে। অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় সড়কের উপর আমাকে দেখে মারধর শুরু করে ফজল করিম ও তার বন্ধু শওকত। এ সময় আমার মা উদ্ধারে এগিয়ে আসলে তাকেও পিটিয়ে রাস্তার উপর ফেলে রেখে।
স্থানীয় শালিসকার মোজাম্মেল হক, মনির উদ্দিন মনু,মোকতার আহমদ বলেন, বৈঠকে আমরা ফজল করিমকে শতর্ক করে দিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সে আর বিরক্ত করবেনা বলে অঙ্গিকার করে। কিন্তু সে কথা রাখেনি। তারা মা মেয়েকে পিটিয়ে তারা রাস্তায় ফেলে রাখে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যাপারে জানতে ফজল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
তবে তার স্ত্রী দিলুয়ারা বেগম বলেন, ছেনুয়ারা বেগম আমার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমার স্বামীকে ভাগিয়ে নিতে চায়। আগে ওই মহিলার সাথে আমার স্বামীর পরকিয়া সম্পর্ক ছিল,তবে এখন নেই। ব্ল্যাকমেইল করে স্বামীকে ফাঁসাতে চায় সে। ওই মেয়ের সাথে অনেকের সম্পর্ক রয়েছে। মারধর করা হয়নি। সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে।
অভিযুক্ত শওকত হোসেন বলেন, মোটর সাইকেল নিয়ে ফজল করিমকে সাথে তার বাড়িতে যাচ্ছি। বাড়ির সামনে পৌঁছলে ছেনুয়ারা গাড়ি থামিয়ে আমাকে জুতাপেঠা করে। তার সাথে আমার পুর্বের পরিচয় নেই। মানুষের মুখে একটু একটু শুনেছি ফজল করিমের সাথে ওই মহিলার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। আমি ফজল করিমকে ভাই ডেকেছি। সে সুবাধে তার বাড়িতে মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসি। আমি চট্টগ্রাম শহরে একটি প্রেসে চাকুরী করি।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানায়, লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তকরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


