Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পর্যটন বিকাশে সেনাবাহিনীর অবদান

পাহাড় কণ্ঠ ডেস্ক
আপডেট : February 14, 2025
Link Copied!

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বান্দরবান একটি অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ পার্বত্য জেলা দেশের পর্যটকদের জন্য এক স্বপ্নরাজ্য। তবে একসময় নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিকশিত হতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, যা আজ বান্দরবানকে পর্যটনের এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে।

সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

রোয়াংছরি উপজেলায় অবস্থিত অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র দেবতা খুমের প্রবেশ মুখ।

একসময় বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পর্যটকদের জন্য একটি বড় বাধা ছিল। সেনাবাহিনী কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায়। আজ বান্দরবান এক শান্তিপূর্ণ ও পর্যটকবান্ধব অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নির্ভয়ে ঘুরতে পারেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন

বান্দরবানে পর্যটন বিকাশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য ছিল। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা হয়েছে। নতুন নতুন সড়ক, ব্রিজ ও পার্বত্য পথ নির্মাণের ফলে দূরবর্তী ও অনাঘ্রাত স্থানগুলো সহজেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেনাবাহিনীর নির্মিত এসব অবকাঠামো স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করেছে।

নীলগিরি।

নতুন পর্যটন স্পট আবিষ্কার ও উন্নয়ন

 

সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় বান্দরবানের অনেক নতুন পর্যটন কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়েছে। নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণমন্দির, রুমা বাজার, বগালেক, কেওক্রাডং, থানচি, রেমাক্রি, আমিয়াখুম, নাফাখুম জলপ্রপাতসহ আরও অনেক স্থান সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসব স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অবকাঠামো ও রিসোর্ট নির্মাণ

পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নতমানের রিসোর্ট, রেস্টহাউস ও ক্যাম্পিং সুবিধা চালু করা হয়েছে। নীলগিরি রিসোর্ট, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, রুমা ও থানচিতে সেনাবাহিনীর পরিচালিত রেস্টহাউসগুলো এখন পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প বিকশিত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পর্যটনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে, এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রসার ঘটেছে।

মেঘের রাজ্য নীলাচল।

সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু বর্তমান পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; তারা বান্দরবানের পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। নতুন পর্যটন কেন্দ্র আবিষ্কার, ইকোট্যুরিজমের প্রচার এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপসংহার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানে আজ বান্দরবান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাস দমন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন স্পট পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বান্দরবান শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।