নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকে লাপাত্তা সারাদেশের অনেক আওয়ামীলিগ নেতা,চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য। পলাতক রয়েছে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা। পলাতক রয়েছেন বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, রাঙ্গামাটি জেলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অং সুই প্রু চৌধুরী ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু । রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অং সুই প্রু চৌধুরী পদত্যাগ করলেও এখনো কাগজে কলমে বহাল রয়েগেছেন ক্য শৈ হ্লা ও মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু।
বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বান্দরবান জেলা আওয়ামিলিগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা ২০০৯ সালে আওয়ামীলিগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ১৬ বছরে নানান দূর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা ও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে জেলা পরিষদের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৭২০ কোটি টাকার খাদ্যশস্য প্রকল্পের পুরোটাই লুটপাট ও আত্মসাৎ করার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য নারী কেলেংকারী ইত্যাদি। এইসব দুর্নীতির মাধ্যমে হয়ে গেছেন হাজার কোটি টাকার মালিক। নামে বেনামে বান্দরবান জেলায় ৮০০ একর জমি আছে তার।
বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায় নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ামানমার পালিয়ে যান তিনি মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড এর বিমানে চড়ে চলে যান ছেলের শশুর বাড়ি বর্তমানে থাইল্যান্ডে আছেন বলে জানা যায়।
পালিয়ে আত্মগোপনে থাকলেও বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সকল তথ্য সরবরাহ করেন তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক চপ্রু অং মার্মা। ড্রাইভার চপ্রু অং মার্মার নামেও নানান দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ।
এইদিকে রাঙ্গামাটি পরিষদ চেয়ারম্যান ও রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি অং সুই প্রু চৌধুরী ও পলাতক রয়েছেন ৫ আগষ্টের পর থেকে কেউ বলছেন তিনি চট্টগ্রামে শহরেই আত্মীয়ের বাসাতেই আছেন। অনেকে বলছেন ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন সকালেই।
খাগড়াছড়ির মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু ও পলাতক রয়েছেন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজী হননি পাহাড়ের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কেউই। অনেকেই বলছেন, মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু ভিক্ষু সেজে পাহাড়েই অবস্থান করছেন। আগষ্ট মাসে খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার জেলা শহরের কলাবাগানস্থ বাস ভবনে হামলা,ভাঙচুর ও শাপলা চত্বর,ভাঙাব্রীজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা,দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ভাংচুর,লুটপাটের অভিযোগে ৫১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো অজ্ঞাত ৩ শতাধিক ব্যাক্তিকে আসামী করে মামলা হয় খাগড়াছড়ি সদর থানায় সেই মামলায় তার নাম ও রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর তাদের কেউই এখন আর নিজেদের কার্যালয়ে আসছেন না। বাড়িতেও নেই। দলীয় লোকদের কাছেও তারা পলাতক। এই তিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। ক্ষমতার দাপটে তারা ছিলেন একচ্ছত্র।
তবে এর পেছনে পাহাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা গত তিন যুগে নির্বাচন না হওয়াকে দায়ী করেছেন। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন তিন বছর মেয়াদের জন্য এই তিন জেলা পরিষদে একবার নির্বাচন হয়েছিল। পরে সেটির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হলেও নির্বাচনের আর কোন দেখা পাওয়া যায়নি।
এসব ব্যক্তিরা ছাড়াও হাসিনা সরকারের পতনের পর আরও যেসব পাহাড়ি নেতা পলাতক রয়েছেন তারা হলেন: রাঙামাটির সাবেক এমপি দিপঙ্কর তালুকদার, খাগড়াছড়ির সাবেক এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি জরতী তংচঙ্গ্যা।
এই বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শামিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কিছুটা সংকট তো হয়েছে। তবে তা কেটে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী। কেননা ইতোমধ্যে নতুন পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান আসলে এসব সমস্যা আর থাকবে না।
আর এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের কেউই কর্মস্থলে না থাকায় জনগণকে সেবা প্রদানে ব্যাঘাত ঘটছে । দেখা দিয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা স্থবিরতা নেমে এসেছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। কেবল দাপ্তরিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ জেলা পরিষদের কাজ। অর্থনৈতিক সব ধরণের অনুমোদন আপাতত বন্ধ। যদিও শিগগিরই নতুন পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।


