খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার শাহবাগে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটি ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট একটি জাতীয় সমস্যা, যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে অস্থিরতা ও সহিংসতা পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গুইমারার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সেই অমীমাংসিত সমস্যারই প্রতিফলন।

সংগঠনটি দেশের সকল রাজনৈতিক দল, অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের অংশগ্রহণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, সংগঠনের পক্ষ থেকেও একটি সংলাপ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এছাড়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়—খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের ঘটনায় মেডিকেল রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হয়।
ধর্ষিত কিশোরীর পরিবারের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সংঘর্ষে নিহতদের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।
নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রতিটি নিহত পরিবারের জন্য কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের সামরিকীকরণ নীতি পরিহার করে সিভিল প্রশাসনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানে এগিয়ে যাওয়ার দাবি জানানো হয়।
অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের আন্দোলন ও প্রতিবাদ দমন না করার আহ্বান জানানো হয়।
সর্বশেষে, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে দ্রুত ও যথাযথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংগঠনটি।
আরো পড়ুন→বান্দরবানে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বন্দনা ও চিত্রাঅংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত


