Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও মাস শেষে বেতন তুলে নেয়ার অভিযোগ এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

চনুমং মার্মা
আপডেট : August 28, 2024
Link Copied!

রুমা প্রতিনিধিঃ প্রধান শিক্ষক হিসেবে তারই নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীরদের পাঠদান করানোর কথা। তবে  এই শিক্ষক বিদ্যালয়ে না গিয়ে মাস শেষে বেতন তুলে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরো জানা যায় তার নাকি রুমা বাজারে একটি মোবাইল ব্যাংকিং এর দোকান রয়েছে নিয়মিত মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দিব্বি। মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রোগ্রামেও বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন, এরকম নানান ধরনের অভিযোগ পাইন্দু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিন এর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট ) দুপুরে পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , প্রধান শিক্ষক আল আমিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না ভালো কথা। কিন্তু তিনি এতটাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর দায়িত্বহীন যে জাতীয়  পতাকাও উত্তোলন করেননি,  তবে তিনটি কক্ষে তিনজন শিক্ষককে পাঠদানের অবস্থায় দেখা মিললে ও পাওয়া যায়নি প্রধান শিক্ষক আল আমিন কে। এ সময় দেখা মিলে ইউএনডিপি জাতিয়করণ শিক্ষক  দুইজন নিয়োগ প্রাপ্ত পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণ শেষে সাময়িক ভাবে এই বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। এই দুই জনের মধ্যে প্রুচিংথোয়াই মার্মা নামের একজন শিক্ষক পাহাড় কণ্ঠ কে জানান, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে  সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এ বিদ্যালয়ে চার মাসের জন্য পাঠিয়েছেন।

পাইন্দু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) এর সাবেক সভাপতি ছোহ্লা মং মারমা বলেন, আগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিন মাত্র একদিন দুপুরে বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তখন বিদ্যালয়ের পাশের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ওয়াশরুম নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে এসেছিলেন। ঐদিনও কোনো ক্লাস না করিয়ে চলে গেছেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে ৯ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে বিদ্যালয়ে মাত্র পাঁচ দিন এসেছিলেন। এ বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে এ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সহ নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন যা ছাত্র ছাত্রীদের জন্য বড়ই ক্ষতিকর। ২০২৪ সালে বিদ্যালয় মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়ে তাকে  কিছুই জানানো হয়নি। গত ৩০ জুনের আগে চেক-এ শুধু সভাপতির সীল দিয়ে কোনো কিছু লেখা ছাড়াই প্রধান শিক্ষক আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলেন। তিনি আরো বলেন ওই চেক দিয়ে কত টাকা উত্তোলন করেছেন তা জানতেন না সাবেক এ সভাপতি।

তিনি আরো বলেন, ৩০জুনের মধ্যে বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে স্কুলে মেরামত কাজ  শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দেড়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ করেননি এই কাজ।

সাবেক সভাপতির সাথে আলাপ আলোচনা শেষ না হতেই ওই দোকানে বসে থাকা পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার কারবারী থোয়াইসা মারমা,ক্যহ্লাচিং মারমা, ক্যহ্লাথোয়াই ও উবাসিং মারমা, সহ আরো অনেকে বলেছেন, বেশ কয়েক বছর আগেও ঐ বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে কয়েক বছর থাকার পর অন্যত্র বদলী চলে গিয়েছিল আল আমিন। ওই সময়েও নিয়মিত আসতেন না।

আবার ঘুরে ফিরে গত বছর তাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। এটা পাইন্দু পাড়াবাসীর জন্য খুব দু:খজনক বলে উল্লেখ করেন পাড়ার প্রধান (কারবারী) থোয়াইসা মারমা। তিনি বলেন, এ ধরনের শিক্ষক ১০০জন থাকলেও পাড়াবাসীর ছেলে মেয়েদের পড়ালেখায় কোন উপকারে আসবে না।

পাড়াবাসীরা আরো বলেন  আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার চলাফেরা। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেই নি উপজেলা শিক্ষা অফিস। খাতায়  দিন তারিখ লিপিবদ্ধ করে রাখা লেখা দেখিয়ে সাবেক সভাপতি ছোহ্লামং মারমা আরও জানান, তিনি সভাপতি থাকাকালীন ২০২৩ সালে ৭ জুলাই কৃষি ব্যাংক থেকে পনেরো হাজার টাকা উত্তোলন করেন আলামীন এই টাকা দিয়ে বিদ্যালয় মেরামত করার কথা থাকলেও মেরামত করেননি তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় মেরামত কাজের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়। ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় হিসেবে কিস্তি হিসেবে একশ হাজার পাঁচশ টাকা উত্তোলন করে প্রধান শিক্ষক। তবে এর আগে দুই কিস্তির টাকা সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া উত্তোলন করা হয়েছে। স্বাক্ষর জাল করে টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন এমন অভিযোগও জানিয়েছেন সাবেক সভাপতি।

জানতে চাইলে পাইন্দু হেডম্যান পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিন বলেন, পাড়াবাসীরা তো বিদ্যালয়ে পড়ায় না। তাই প্রতিদিন আমি স্কুলে যাই কিনা সেটা কেমনে অভিভাবকেরা জানবে। এ কথা বলে এড়িয়ে যান প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান বলেন, জুলাই মাসে রাজনৈতিক কারণে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।  এছাড়া অন্য বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি ।