নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে বান্দরবানের স্বাস্থ্য বিভাগ। চলমান এ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর ১২টায় বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবানের সিভিল সার্জন বলেন, জেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “পোয়ামুহুরি থেকে আলীকদমে একজন রোগী আনতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবহন খরচ হয়। এসব বাস্তবতা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, বান্দরবানের কিছু দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিও রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমাদের পরিবহন সংকট রয়েছে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছে টিকাসেবা পৌঁছে দিতে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান কার্যক্রমের আওতায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া যেসব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু হাম-রুবেলা টিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ঝরে পড়েছে, তাদের টিকাদানের আওতায় আনা হচ্ছে। ২০২৬ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
হামজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, গণযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি টিকাদান-পরবর্তী কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়।
হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের তথ্য:
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে কার্যকর সাফল্য অর্জন সম্ভব।
আরো পড়ুন→আকরাম হোসেন ভূঁইয়া অমি ছাত্রদল দক্ষিণের সহ-সভাপতি নির্বাচিত