পেকুয়া(কক্সবাজার)সংবাদদাতাঃকক্সবাজারের পেকুয়ায় মসজিদে মাদক ও জুয়া নিয়ে আলোচনা করায় আব্দুল কাইয়ুম (২৫) নামের এক ইমামকে জুতাপেঠা করেছে বেশ কয়েকজন মাদকাসক্ত দূর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ছনখোলার জুম জামে মসজিদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম টইটং ইউপির ছনখোলার জুম জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ছনখোলার জুম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ছাবের আহমদ, মুসল্লী আবু তালেব, জাহেদুল ইসলাম,হাজ্বি নুরুল ইসলাম, বজল আহমদসহ আরো অনেকে বলেন,শুক্রবার জুমার নামাজে আলোচনা শুরু করেন ইমাম আব্দুল কাইয়ুম। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম মাদক ও সুদ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা তুলে ধরেন। তাতেই ক্ষেপে যান বেশ কয়েকজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা।
জুমার নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমকে জুতা দিয়ে পেঠাতে থাকেন ছনখেলার জুম এলাকার মৃত হাবিব উল্লাহ’র ছেলে ও অত্র মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দু ছালাম ,একই এলাকার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে ও অত্র মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দু ছালাম ও মৃত রশিদ আহমদের ছেলে জামাল হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন,এরা নিয়মিত মাদক সেবন করে এলাকায় পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা উশৃঙ্খল লোক। মানুষকে গালমন্দ ও মারধর করে থাকে। তাদের অত্যাচার ও মাতলামিতে অতিষ্ট এলাকাবাসী। কয়েক মাস আগেও মসজিদের মুয়াজ্জিন সাইফুল ইসলামকে আজান দেওয়ার সময় নির্দয় পিটিয়ে আহত করে আব্দু ছালাম প্রকাশ বদনা।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসি বৈঠকে আব্দু ছালামকে জরিমানা ও করা হয়েছিলো। এরপরেও থেমে নেই তাদের অপকর্ম। মসজিদে ইমামকে মারধর করার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট ঘটনাকে নিয়ে মুসল্লী ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে দ্বন্ধ চরম আকার ধারন করেছে।
এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনজুর আলম বলেন, একজন মসজিদের ইমামকে মারধর করা খুবই নগন্য কাজ। হামলাকারীদের মধ্যে একজন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও অপরজন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তারা নিয়মিত মাদক সেবন করে থাকে। এ বিষয়ে টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে অবগত করা হয়েছে। তিনি শনিবার বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্থ করেন।
স্থানীয়রা জানায়,এর আগেও হাসান শরীফ নামে একজন ইমামকে লাঞ্চিত করে বিতাড়িত করে আব্দু ছালাম গং। বারবার তারা ইমাম কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়ছে।
এবিষয়ে আব্দু ছালামের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানার পর গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আব্দু ছালাম একজন নেশাখোর। দুইপক্ষকে নিয়ে বসবো।


