নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যেগে ম্রোদের নবান্ন উৎসব চমুংপক পই ও লোক সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২১ আয়োজন করা হয়েছে জুমচাষী প্রেনপং ম্রো”র জুম ঘরে।ম্রোদের চমুংপক পই নবান্ন উৎসবে নিজেদের কৃষ্টি,সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে লালন করে আধুনি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কাউছার হোসেন তিনি বলেন বর্তমান সরকার সকল জাতিগোষ্টির ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এগুলো যেন বেঁচে থাকে চর্চা হয়, বান্দরবান জেলায় ম্রোজনগোষ্টীর ঐতিহ্য সম্মৃদ্ধ জনগোষ্টি, তাদের জীবনাচরণ,কৃষ্টি বিভিন্ন রকম আচার অনুষ্টান, তাদের যে ঐতিহ্য ছোঁয়া আছে সেগুলো আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের সলকের কাজ করতে হবে। বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউট বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, প্রতিযোগীতা আয়োজন করে থাকে এবং বিভিন্ন স্মরণিকার মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যগুলো তুলে ধরে। সেগুলোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ম্রোজাতিগোষ্টির গৌরবগাঁথা সম্মৃদ্ধ ইতিহাস জানতে পারবে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সৃষ্টির লগ্ন থেকে বান্দরবানের সকল জাতিগোষ্টির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন কোন ম্রো ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করার ক্ষেত্র আর্থিক সমস্যার কারনে যেন লেখাপড়ার ব্যঘাত না ঘটে সেদিকে অবশ্যই বান্দরবান জেলা পরিষদ সুদৃষ্টি রাখবে এবং যারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করবে তাদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেছে বান্দরবান পার্বত্যজেলা পরিষদ। বর্তমানে জেলা পরিষদ ২২০০জনকে বৃত্তি দিয়ে থাকে, এলাকায় জায়গা পেলে বিদ্যালয় করে দেওয়া হবে বলে জানান। ম্রোজনগোষ্টিকে ঐতিহ্য সংস্কৃতি লালন করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহবান জানান শিক্ষা লাভ করতে না পারলে আমরা বিশ্বায়ন থেকে পিছিয়ে যাবো বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্টানে বান্দরবান ক্ষুদ্রনৃগোষ্টির ইনিষ্টিটিউট এর কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মং নু চিং। অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন চংরেং ম্রো কার্বারী ।অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মংনুচিং মার্মা, সহকারী পরিচালক লীলা ম্রো, উপ বার্তা নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ বেতার অজিত কুমার দেবনাথ ,কাইং ম্রো গবেষণা কর্মকর্তা পাবর্ত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রমূখ। এ উপলক্ষে চমুংপক পই মঙ্গল শোভা যাত্রা, জুমের নতুন ফসল উৎসর্গ ও প্রার্থণা, জুম চাষের সরঞ্জামাদি ও জুমের নতুন ফসল প্রদর্শন, নতুন ধানের পিঠামেলা, ম্রোদের লোকসংগীত, লোক নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়েছে।


