Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের কী করা উচিত

পাহাড় কন্ঠ ডেক্সঃ
আপডেট : October 30, 2021
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক :নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যম। এর মাধ্যমে জনগণ যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে থাকেন। এভাবে বাছাইয়ের মাধ্যম যত স্বচ্ছ হবে, জনবান্ধব প্রতিনিধি নির্বাচিত করা ততই সহজ হবে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। প্রত্যন্ত এলাকার উন্নয়নের ওপরই দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে। সুতরাং নির্বাচন যতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে ততই জনতার আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।

আমাদের দেশে যখন কোনো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন সেটা উৎসবে পরিণত হয়। নির্বাচনের সময় যখন নির্ধারণ করা হয় তখন শহরকেন্দ্রিক পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য নিজ নিজ বাড়ির দিকে ছুটে আসেন। পাশাপাশি দলবেঁধে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে যান। আর এভাবেই সাধারণ জনতা নির্বাচনের আনন্দ উপভোগ করেন।

বর্তমানে দেশব্যাপী বইছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। ইতোমধ্যেই কে হবেন মহিলা মেম্বার, কে হবেন মেম্বার, কে হবেন চেয়ারম্যান- এই নিয়ে আলোচনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জনপদ। গ্রামীণ হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে জমে উঠছে নির্বাচনের তুমুল আলাপ-আলোচনা। এই আলোচনার মধ্যে কেউ খুঁজছেন যোগ্য প্রতিনিধি যা ইউনিয়ন পরিষদকে করবে আলোকিত। আবার কেউ খুঁজছেন কালো টাকার প্রতিনিধি যা ইউনিয়ন পরিষদকে করবে অন্ধকার। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপনে, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য গড়তে এবং উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করা জনগণের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কারণ জনপ্রতিনিধিরা আমাদের মতোই সমাজের একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাদের মাঝে এমন কিছু অসাধারণ প্রতিভা বা গুণাবলি আছে যা দ্বারা সমাজ এবং সমাজের মানুষকে আলোকিত করবে। এজন্যই আমরা নির্বাচনে তাদের নির্বাচিত করি। যখন দেশে কোনো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন সাধারণ জনগণ চাইলে যে কাউকে নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে পারে। কিন্তু প্রতিটা নির্বাচনে আমরা চাই সৎ, যোগ্য, ন্যায়বান, আদর্শবান পাশাপাশি চরিত্রবান একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হোক। যারা দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতা করে পাশে থাকবে এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধির চেয়ে জনগণের করণীয় বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কিছু উল্লেখযোগ্য করণীয় আছে, যা যথাযথভাবে পালন করলে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে সক্ষম হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অশিক্ষিত, অযোগ্য ও সুযোগসন্ধানী জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত না করা। পাশাপাশি শিক্ষিত, সৎ, ন্যায়বান ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করা। যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যোগ্য ও সৎ, যার দ্বারা জনকল্যাণমুখী কাজ হবে এবং যিনি জনগণের উপকারে নিবেদিত থাকবেন, তাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত।

এছাড়া যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচনে নির্বাচিত করতে হলে জনতাকে অবশ্যই অর্থলোভী হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আর জনগণ যদি অর্থলোভী হয়ে কোনো জনপ্রতিনিধিকে ভোট প্রদান করে, তাহলে নির্বাচনের পরে জনপ্রতিনিধিকে কোনো জবাবদিহির মধ্যে রাখা যাবে না। যার ফলে জনপ্রতিনিধি তার ইচ্ছা মতো যে কোনো কাজ করবে তাতে জনগণের নাক গলানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। সুতরাং ইউনিয়নের উন্নয়ন তথা যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে হলে অবশ্যই ভোট বিক্রি করা তথা অর্থলোভী হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচন আসলে দুষ্ট লোকেরা ভালো মানুষের মুখোশ পরে জনতাকে বিভিন্নভাবে বোঝাতে চেষ্টা করে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তাদের কাজে এবং কথায় কোনোটাই মিল থাকে না। সুতরাং প্রকাশ পায় তাদের আসল চেহারা। তাই, নির্বাচনে জনতা যেন দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার পরিবর্তে অযোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত না করে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পাশাপাশি যাদের নির্বাচিত করলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে তাদের নির্বাচিত করে জনগণ তথা ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য বিপদ ডেকে না আনাই উচিত।

নির্বাচনে জনগণের সবচেয়ে বড় নাগরিক দায়িত্ব হলো জেনে, শুনে ও বুঝে জনপ্রতিনিধিকে ভোট দেওয়া। আমরা যাতে কালো টাকার খেলা, দুর্নীতি এবং অযোগ্য জনপ্রতিনিধির কাছে জিম্মি না থাকি সেদিকে খেয়াল রাখা। কারণ, নির্বাচনের দিন ভোটের মাধ্যমে যে বীজ বপন করা হয়, সেটা দীর্ঘ সময়ের জন্য পেয়ে থাকি। সুতরাং, জেনে, শুনে ও বুঝে ভোট প্রদান না করলে, ভোটাররা খাল কেটে কুমির ডেকে আনবে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে ভোট প্রদান করলে, পরবর্তীকালে দুর্নীতি, অন্যায় ও অনিয়ম বেড়ে যাবে। আর এদের নির্বাচিত করার মূল উদ্দেশ্য হবে দুর্নীতিবাজদের সাহায্য করা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য জনগণকে বেশি সচেতন হতে হবে। জনগণ যদি অসচেতন হয়ে অযোগ্য জনপ্রতিনিধিকে ভোট প্রদান করে, তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই মনে রাখতে হবে, ন্যায়পরায়ণ, বিবেকবান, আদর্শবান, নীতিনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও সমাজ উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তথা দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। অপরদিকে, সাধারণ জনতা যদি যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত তথা সমগ্র দেশ পিছিয়ে যাবে।