Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

ফিলিপাইনের পর চিলির এক নারীকে সহযোগিতা করলেন পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন

পাহাড় কন্ঠ ডেক্সঃ
আপডেট : August 21, 2021
Link Copied!

পাহাড় কন্ঠ ডেস্ক :দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের দেশ চিলির এক নাগরিক বিগত দুই মাস আগে ‘সাইবার ট্রাইবিউন গ্রুপে একটি পোস্ট করে বাংলাদেশি ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগ এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন।

চিলির ওই নারী সাইবার ট্রাইবিউন গ্রুপে পোস্ট করে জানান এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগ বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারনা করেছে, চিলির ওই নাগরিক ‘সাইবার ট্রাইবিউন’ গ্রুপ ছাড়াও বেশ কয়েকটি গ্রুপের পোস্ট করেন।

পোস্টটি দৃষ্টিগোচর হয়,চট্রগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ সদস্য মোঃআলমগির হোসেনের। তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে কল দিয়ে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী বিদেশি নাগরিক মেলিশার অভিযোগ স্বীকার করেন।

এবিষয়ে,ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগের বক্তব্য,উক্ত নারী কিছু প্রোডাক্ট নিবে মর্মে তাকে “এক লক্ষ ত্রিশ হাজার” টাকা দিয়েছিলো এবং প্রোডাক্ট গুলো”চায়না” থেকে এনে দেওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু দুঃখজনক ভাবে ওই প্রোডাক্ট গুলোর দাম বেড়ে গিয়ে ছিলো।দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মেলিশাকে জানালে তিনি প্রোডাক্ট নিবেন না বলে জানান,একারণে প্রোডাক্ট দিতে পারেনি ব্যবসায়ী।সেই নারী প্রোডাক্টের টাকা ফেরত চাইলে।ব্যবসায়ী টাকা দ্রুত পাঠিয়ে দিবেন বলেন আশ্বস্ত করেন। লকডাউনের কারনে বাংলাদেশ থেকে চাইলেও তখন টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা।যার কারণে কিছু দিন সময় অতিবাহিত হয়।

বিদেশি নাগরিক মেলিশা বলেন টাকা এখনি পাঠাতে হবে।মেলিশাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে টাকা রিফান্ড করে দিবেন। চিলির ওই নারী কোন কথা না শুনে বার বার কল এবং মেসেজ দিতেই থাকে ব্যবসায়ীকে।বিরক্ত হয়ে সেই ব্যাবসায়ী তাকে মেসেঞ্জারে ব্লক করে দেয়।তবে ব্যবসায়ীর ভাবনা ছিলো যে ভাবে হোক টাকা পাঠানোর ব্যবস্তা করে সোস্যাল মিডিয়ার ব্লক খুলে দিবেন এবং টাকা রিফান্ডের ব্যপারে কথা বলে রিফান্ড করে দিবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদস্য মোঃ আলমগীর কে।

কিন্তু পানি গড়ালো ঠিক তার উল্টো,বিদেশি ওই নারীকে ব্লক করাতে সে ধরে নিয়েছে তার টাকা আত্নসাত করেছে ব্যবসায়ী।তাই ব্যবসায়ী কে প্রতারক অবহিত করে ব্যবসায়ীর ছবি দিয়ে প্রতারণা করেছেন এমন পোষ্ট দিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।

সোস্যাল মিডিয়া’য় এমন নেতিবাচক পোস্ট দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ব্যাবসায়ী গ্রাহকদের দৃষ্টিগোচর হলে অন্য ব্যবসায়ীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় এবং ব্যবসার ক্ষতি হবে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েন।

তখন পুলিশ সদস্য মোঃআলমগীর ব্যবসায়ীকে পরামর্শ দেন। আপনি টাকা ফেরৎ দিতে ইচ্ছুক কিন্তু সে যখন বিশ্বাস করছেনা তখন হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ চ্যাটে আমাকেও যুক্ত করেন।গ্রুপ চ্যাট খোলার পর ওই নারীর সাথে মোঃ আলমগীর পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব তার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বস্ত করেন। চিলির ওই নারীকে বলেন,ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগের নামে অভিযোগ করা পোস্ট মুছে দিয়ে।টাকা রিফান্ড পাওয়ার পর একটি ইতিবাচক পোস্ট করবেন এমন পরামর্শ দেয়। বিদেশি নারী মেলিশা পুলিশ সদস্য মোঃ আলমগীরের কথায় রাজী হয়ে সকল পোস্ট মুছে দেন।

চিলিতে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানোর বৈধ কোন উপায় না থাকায়,ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমেও টাকা পাঠানো যায়না।সেই জটিলতার কথা মেয়েটাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন পুলিশ সদস্য কিন্ত  মেয়েটি বুঝতে চায়না।এভাবে আরো কয়েকদিন কেটে যায়।

ব্যবসায়ীর প্রতি পুলিশ সদস্য চাপ সৃষ্টি করে যেন যেকোন উপায়ে টাকা পাঠিয়ে দেয়।অবশেষে সে ব্যাংকে গিয়েও যোগাযোগ করলেও কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন সমাধান দিতে পারেনি।পুলিশ সদস্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী কাছ থেকে তা জানতে চাইলেও কেউ চিলিতে টাকা পাঠানোর সঠিক ও বৈধ উপায় দেখাতে সক্ষম হয়নি। সবাই বলেন চিলিতে টাকা পাঠানোর কোন ব্যবস্থা নেই।পুলিশ সদস্য বিদেশি সেই নারীকে বলেন যেসব দেশে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায় সেসব দেশে যদি তার কোন আত্বীয় স্বজন থাকে তাদের অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিতে এবং সেখানে টাকা রিফান্ড করে পাঠিয়ে দিবেন। কিন্তু সেই নারী সেটিও দিতে ব্যার্থ হন।এভাবে করে আরো পাঁচ দিন চলে গিয়েছে।

বিভিন্ন এজেন্সীর লোক খোঁজার চেষ্টা করছিলো যে তাদের যদি কোন শুভাকাঙ্খী বা রিলেটিভ থাকে তাদের মাধ্য বাইরের কোন দেশ থেকে টাকাটা চিলিতে পাঠানো যায় কিনা।এদিকে আবার কঠোর লকডাউন শুরু হয়ে গেলো দেশে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। সবমিলে আবারো ঝামেলার বেড়াজালে আটকে যায় ব্যবসায়ী।তবে মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি খারাপ সর্বাত্বক লকডাউন চলছে সে যেন সময় দেয়, কিন্তু মেয়েটি তা মানতে রাজি হচ্ছিলো না। একবার পুলিশ সদস্যের কথা বিশ্বাস করে আবার করেনা,সেই ব্যবসায়ীকেও বিশ্বাস করতে রাজি না।ব্যবসায়ীকে প্রতারক বলেন এবং টাকাও ফিরে পেতে চান। এভাবে চলতে চলতে দেড় মাস হয়ে গেলেও টাকা পাঠানো সম্ভব হয়নি।কঠোর লকডাউন এবং চিলি’তে টাকা পাঠানোর বৈদ উপায় না থাকায়।

দুই মাস চলাকালীন সময়ে মেয়েটি একটা এজেন্সীর সাথে কথা বলে সব বিষয়ে।আরেকটি দেশে পাঠাবে সেই দেশ থেকে চিলিতে রিফান্ড করবে।সৌভাগ্যবশত এজেন্সীর লোকটি একজন লোককে খুজে বের করেন যিনি ফ্রান্সে থাকেন।ওনাদের পাঠানো টাকার সমপরিমান টাকা ফ্রান্স থেকে চিলিতে দিয়ে দেবে।অবশেষে (১৮-ইআগষ্ট) ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগ টাকা এজেন্সীতে বুঝিয়ে দেন।ওই নারী টাকা পেয়েছে মর্মে পুলিশ সদস্য মোঃআলমগীর হোসেন কে (২০-ই আগষ্ট) অবহিত করেন।চিলির নাগরিক মেলিশা খুশি হয়ে পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ আলমগির এবং বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

অতঃপর পুলিশ সদস্যের কথামত সোস্যাল মিডিয়ায় অভিযোগকৃত  পোস্ট গুলো ডিলিট করে পূণরায় ব্যবসায়ী সৎ অবহিত করে সোস্যাল মিডিয়ায় আরেকটি পোস্ট করেন চিলির নাগরিক মেলিশা।