বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুচকে (৩৯) দীর্ঘ ১১ মাস পর গ্রেফতার করেছে লামা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আবদুল কুদ্দুচ লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি করাতকল দেখাশোনার পাশাপাশি অটোরিকশা চালাতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকায় বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার ঢাসার সঙ্গে গলায় নেটের রশি পেঁচানো অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ৯ জুলাই লামা থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত, ডিএনএ প্রোফাইলিং ও চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ মতামতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির অ্যানাল সোয়াবে বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী, বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এরপর চলতি বছরের ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই মো. সালাহ উদ্দিন। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তে সহযোগিতা করেন এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া ও এএসআই প্রকাশ ঘোষ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আবদুল কুদ্দুচ তার ব্যবহৃত অটোরিকশা স্থানীয় একটি গ্যারেজে রেখে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
লামা থানার এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল কুদ্দুচ শিশুটিকে বলাৎকার এবং পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরো পড়ুন→নাইক্ষ্যংছড়িতে তহজিংডং ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত