বান্দরবানে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজস্ব অরন্য দৃষ্টির উদ্যোগে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের দলবনিয়া পাড়ায় ২০টি পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে।

এ সময় ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য চাল, আলু, পেঁয়াজ এবং খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রায় ১০ হাজার টাকার এই সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে সংগঠনটি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমতিয়াজুল ইসলাম। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কয়েকজন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন অরন্য দৃষ্টি। সংগঠনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক পরিবেশবিষয়ক সংগঠন Society for Ecological Restoration (SER)-এর সদস্যপদ লাভ করেছেন। তার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে বান্দরবান থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও কমিউনিটিভিত্তিক পরিবেশগত কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইমতিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া মানে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা নয়। ইচ্ছাশক্তি, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকলে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সীমাবদ্ধতা আমাদের পরিচয় নয়, আমাদের কাজই আমাদের প্রকৃত পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা বান্দরবানের মতো একটি দুর্গম অঞ্চল থেকে পথচলা শুরু করেছি। আমাদের সম্পদ সীমিত, কিন্তু স্বপ্ন সীমিত নয়। আমরা চাই প্রকৃতি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং মানবিক সহায়তার কাজগুলো স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে নিতে। আমি বিশ্বাস করি, একজন মানুষ একা খুব বেশি কিছু করতে পারে না, কিন্তু অনেক মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতা একত্রিত হলে বড় পরিবর্তন সম্ভব।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ত্রাণ কার্যক্রমটি অরন্য দৃষ্টি-এর সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিক শ্রমের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বন্যাকবলিত ও অসহায় মানুষের পাশে আরও বড় পরিসরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য: সংগঠনটি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির বিশ্বাস, মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই একটি টেকসই ও মানবিক সমাজ গঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরো পড়ুন→বান্দরবানে বন্যাকবলিত ১৪৫ পরিবার-কে ত্রাণ দিলো মেজর (অব.) ওয়াং টিং