টানা চারদিন ভারী বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে ডুবে গেছে বান্দরবানের বিভিন্ন নিম্নবর্তী এলাকা। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে বইছে বলে জানা গেছে।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে জেলার কয়েকটি উপজেলা ও সদরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে জেলা জুড়ে, যা চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের চরম দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তিতে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বর্ষণ অব্যাহত থাকায় জেলা শহরের সাঙ্গু নদী তীরবর্তী আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগরসহ লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সঠিক সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও বান্দরবান, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি জেলায় পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রস্তুত রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়া ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে ইতিমধ্যে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে এবং জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আরো পড়ুন→ভারী বর্ষণ উপেক্ষা করে দীপেন দেওয়ানা কে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন