পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধিঃকক্সবাজারের পেকুয়ায় তাবাচ্ছুম জান্নাত রেখা মনি (১৪) নামের এক মাদরাসা ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেখামনি একই এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে ও রাজাখালী বেশারাতুল উলুম ফাযিল মাদরাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী।

পেকুয়া থানা পুলিশ সকালে মরদেহ উদ্ধার করেছে। স্থানীয়রা জানায়,রেখামনির সাথে তার সহপাঠী আবুল কাসেমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাতে আবুল কাসেম তার দুই বন্ধু হাজির পাড়ার আলমগীর ও রবিউল আলমের সহযোগিতায় রেখা মনির সাথে সাক্ষাত করে। তারা পাশের মসজিদের পাড়ে মৎস্যঘেরের একটি টংঘরে আলাপচারিতা করে। এ সময় কয়েকজন লোক তাদের দেখে ফেলে।আবুল কাসেম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের মকছুদ আহমদের ছেলে।

রেখামনির বড় ভাই রাসেল জানায়,বাড়িতে মা-বাবা ছিলনা। তারা বাঁশখালীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল। ছোট বোনকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে কাসেম বের করে নিয়ে যায়। তারা আলাপ করছিল। কয়েকজন প্রতিবেশী রেখামনিকে বাড়িতে নিয়ে আসে।এলাকাবাসি দেখে ফেলায় রাতে অপমানে বিষপান করে।

রেখামনির চাচা কামাল হোসেন জানায়, রাসেলসহ আমরা গিয়ে রেখামনিকে বাড়িতে নিয়ে আসি। রাতে প্রেমিক কাসেমের সাথে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হয় সে। বিষয়টি জানাজানি হলে হয়তো অপমানে সবার অগোচরে সে বিষপান করে আত্মহত্যা করে।

ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু বলেন, দুইজনই সহপাঠী। প্রেমের সম্পর্কের টানে মাঝে মধ্যে আবুল কাসেম তার ফুফির বাড়তে আসা যাওয়া করতো। ফুফির বাড়ির পাশে রেখামনির বাড়ি। কাসেমের সাথে রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখা করলে কয়েকজন প্রতিবেশী দেখে ফেলে। পরে চাচা কামাল, চাচী মাবিয়াসহ স্থানীয়রা তাকে বড় ভাই রাসেলের হাতে তুলে দেয়।

রেখামণির পিতা আইয়ুব আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি বাঁশখালীর পুঁইছড়ি আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলাম। ছেলে রাসেল মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে বাড়িতে এসে দেখি মেয়ে বিষপান করে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, তাবাচ্ছুম জান্নাত নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল নির্ণয় করে ময়না ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।