বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পরিসরে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবনসংগ্রাম ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরতে আবারও বিশ্বমঞ্চে যাচ্ছেন বান্দরবানের লিলিপ্রু মার্মা । তুরস্কের আনতালিয়ায় আগামী ৯ নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
লিলিপ্রু মার্মা ‘ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ’ (YDSB)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে দুটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন আদিবাসী মার্মা নারী হিসেবে লিলিপ্রু মারমা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে কেবল পরিবেশগত সংকট হিসেবে নয়, বরং ভূমির অধিকার, জীবিকা, পানি, সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করছে, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা তাঁর অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কপ-৩১ সম্মেলনে তিনি আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ, নারী-সংবেদনশীল জলবায়ু কার্যক্রম, পানির ন্যায্য অধিকার এবং জলবায়ু নীতিনির্ধারণে আদিবাসী নারী ও জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে advocacy অব্যাহত রাখবেন।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে অনেক প্রান্তিক ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর জনগোষ্ঠী। অথচ জলবায়ু মোকাবিলার নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এ বাস্তবতায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে জলবায়ু সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
লিলিপ্রু মার্মার এই অংশগ্রহণ পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। পাহাড়ের মানুষের বাস্তবতা, বিশেষ করে আদিবাসী নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আলোচনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের মঞ্চ—লিলিপ্রু মার্মার এই যাত্রা শুধু একজন ব্যক্তির অংশগ্রহণ নয়; বরং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।