ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণের পর অব্যবহৃত ইট, রড, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) না জানিয়ে এবং দরপত্র আহ্বান না করেই এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া মালামাল বিক্রির টাকা দিয়ে শিক্ষকরা পূজার ছুটিতে রাঙামাটি ভ্রমণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, বিধি মেনেই অব্যবহৃত মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ইট, বালু, রড, কাঠসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কেনা হয়। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর ইট, রড, খোয়াসহ বেশ কিছু মালামাল অব্যবহৃত থেকে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও ফিরোজ হোসেনকে না জানিয়েই প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক এসব মালামাল বিক্রির উদ্যোগ নেন। দরপত্র ছাড়াই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের কাছে মাত্র ৭০ হাজার টাকায় মালামালগুলো বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়রা জানালেন, পূজার ছুটির আগের দিন সন্ধ্যায় ড্রাম ট্রাকে করে এসব মালামাল বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেগুলো শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়।

মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ডাম্প ট্রাকের এক চালক বললেন, সাত ট্রাক খোয়া ও কিছু রড শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামে মল্লিক স্যারের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে রাখা হয়েছিল।

তবে সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের দাবি, তিনি সর্বোচ্চ দাম দিয়েই মালামাল কিনেছেন। এজন্য এক্সিম ব্যাংকের সিডস্টোর শাখায় ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। মালামাল শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বললেন, সেগুলো নিজের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

নিজের সম্পদের বিষয়ে তিনি জানালেন, ভালুকা ও শ্রীপুর উপজেলায় তার বাড়ি রয়েছে। ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দায় ২১ তলা একটি ভবনের নির্মাণকাজও চলছে।

সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক ইদ্রিস আলীর বক্তব্য, বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। পরে প্রধান শিক্ষক তাকে ফোন করে জানিয়েছেন, রেজল্যুশন করে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির এক নেতার অভিযোগ, তারা মসজিদের জন্য ওই নির্মাণসামগ্রী কেনার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের না জানিয়ে শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে গোপনে নামমাত্র মূল্যে মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক বললেন, বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ও অতিরিক্ত মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিধি মোতাবেক বিক্রি করা হয়েছে। তবে বিক্রির বিষয়ে করা রেজল্যুশনে বিদ্যালয়ের সভাপতির স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি ফিরোজ হোসেন বললেন, বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির বিষয়ে কোনো রেজল্যুশন হয়েছে বলে তার জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।য়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।