পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারী মুক্তির আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে নারীপক্ষ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবানের হলিডে ইন রিসোর্টের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নারী সম্মেলনের ফলাফল ও সুপারিশ তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ‘নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরণ’ শীর্ষক এ আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের তৃণমূল নারী সংগঠন, দুর্বার নারী নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, জনপ্রতিনিধি ও তরুণসহ ৭০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, তৃণমূল পর্যায়ে নারী আন্দোলন শক্তিশালী করা, তরুণ নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সম্পদের উত্তরাধিকারে নারীর অধিকার, সামাজিক কুপ্রথা, নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সম্মেলনে হেডম্যান ও কারবারীদের প্রতি ওয়ারিশ সনদে কন্যাসন্তান ও স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত বাধ্যতামূলক করা, নারী হেডম্যান ও কারবারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নিজ নিজ এলাকাকে নারীর প্রতি সহিংসতামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া দুর্বার সংগঠন ও তরুণদের মাধ্যমে নারী অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্যাতনের শিকার নারীদের আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা, নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কমিটিতে নারী নেত্রীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনের ‘জীবনের অধিকার’ শীর্ষক অধিবেশনে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের বিষয়েও আলোচনা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশ বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে মতামত দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এদিকে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার ও নিরুপা দেওয়ান কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিবেদনের ৪৩৩টি সুপারিশের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাসের সঞ্চালনায় সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান করা, তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ এবং নারী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাস, অনন্যা কল্যাণ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও দুর্বার নারী নেটওয়ার্কের নেত্রী ডনাই প্রু নেলী, নারীপক্ষের সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার, মেহেন তাবিন আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমিন, সাবিনা ইয়াসমিনসহ বান্দরবানে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নারীকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে নারীপক্ষ।