বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) কার্যালয়ের পাশের একটি জানালার কাচ ভেঙে গেছে। ঘটনার পর হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক।

হাসপাতাল প্রধান ডা. মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর জানান, গত শনিবার রাত ৯টার পর হাসপাতালের ইউএইচএফপিও কার্যালয়ের পাশের একটি জানালা লক্ষ্য করে কে বা কারা ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে কার্যালয়ের উত্তর পাশের জানালার কাচ ভেঙে যায়।

ঘটনার সময় ডা. মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর কার্যালয়ে ছিলেন না। তবে হাসপাতালের অন্যান্য ভবনে লোকজন অবস্থান করছিলেন। বিকট শব্দ শুনে তাঁরা ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও পাহারার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার কাচ ভাঙা দেখতে পান।

ইউএইচএফপিও জানান, ঘটনাস্থলটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় সেখানে কাউকে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় তাঁর দায়িত্ব ছিল হাসপাতালের অন্য প্রান্তে। শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, দুর্বৃত্তরা ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বেড়েছে এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও রয়েছে। নানা পরিচয়ে এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। হাসপাতালের এ ঘটনার পর পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে সচেতন মহলের কয়েকজনের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, পাহারার দায়িত্বে আনসার সদস্যরা থাকলেও হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

ঘটনার দিন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার দলের প্রধান মুনির আহমদ হাসপাতালের বাইরে ছিলেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর জননিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে সাতজন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। রোটেশন পদ্ধতিতে তাঁদের হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের কথা।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে কে বা কারা হাসপাতালের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় করা অভিযোগে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কেউ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে।