মার্মা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’কে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে বান্দরবানে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পাহাড়ের লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে লিটন স্টার ক্লাবকে ১৪–৮ গোলে পরাজিত করেছে মোখো দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বান্দরবান শহরের ফাতেমা রাণী মিশন মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য উঃ চনু মং।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উক্য সিং মার্মা। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য,স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে,এবারের টুর্নামেন্টে মোট চারটি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মোখো দল ও লিটন স্টার ক্লাবের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলতে থাকে মোখো দল। একের পর এক গোল করে তারা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৪–৮ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, লিটন স্টার ক্লাবও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮ গোলেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অপর দুটি দল হলো নব দিগন্ত সমাজ কল্যাণ ও কেলা বেলা। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উঃ চনু মং বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ধরে রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং পাহাড়ে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন,পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সুস্থ ধারার ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করতেই প্রতিবছরের মতো এবারও এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে ফাতেমা রাণী মিশন মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রতিযোগিতার আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে। মার্মা তরুণদের অংশগ্রহণে খেলাধুলার এই আয়োজন ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা,ঐতিহ্যবাহী এ হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বাড়বে এবং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও গভীর হবে।