বান্দরবানের দুর্গম ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা আলীকদমে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা 'সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত' (আলীকদম চৌকি) দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম চালুর জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি-কে একটি উপানুষ্ঠানিক আধা-সরকারি পত্র (ডি.ও. লেটার) পাঠিয়েছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর পাঠানো ওই আধা-সরকারি পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালে আলীকদমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের প্রাথমিক অবকাঠামো হিসেবে ভবন নির্মিত হলেও পরবর্তীতে নিয়মিত বিচারকার্য চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বর্তমানে আলীকদম উপজেলার অধিবাসীদের সামান্য আইনি সেবা বা মামলার হাজিরার জন্যও জেলা শহর বান্দরবানে প্রায় ১১১ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

এই দীর্ঘ পথ যাতায়াতে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ, সময় ও শ্রমের অপচয় ঘটছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জনপদের নারী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জেলা সদরে গিয়ে বিচার লাভ করা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডি.ও. লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়, আলীকদমে ইতোমধ্যে সেনানিবাস, মডেল থানা, বিজিবি ব্যাটালিয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যমান। এছাড়া পূর্বে নির্মিত চৌকি আদালত ভবনটি সামান্য সংস্কার ও ব্যবহার উপযোগী করার মাধ্যমেই স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

স্থানীয় পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন ‘গ্রীন পলিসি মুভমেন্ট’-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি ইতিপূর্বে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রেরিত হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪-এ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক ও প্রধান মুখপাত্র মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু) জানান, আলীকদমসহ পার্শ্ববর্তী লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক কার্যালয় চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি। স্থগিত হয়ে থাকা এই চৌকি আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত অর্জনে তাদের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের নাগরিক দাবি বিবেচনায় আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আইনমন্ত্রীর দ্রুত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।