রোববার (১১ অক্টোবর) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বক্তব্য ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য লুসাই মং, মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা, নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর প্রমুখ।
এসময় বক্তব্য ও কুইজ প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছে বান্দরবান আইডিয়াল স্কুলের চার শিক্ষার্থী। বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাইলুং খুমি। এ ছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী লিলিশে মারমা, তুতুলি তঞ্চঙ্গ্যা ও পূর্ণ বিকাশ।অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়েশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন।’
কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার প্রসার এবং নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ আয়োজন করা হয়।
বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে ছাইলুং খুমি নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে। অন্যদিকে, কুইজ প্রতিযোগিতায় লিলিশে মারমা, তুতুলি তঞ্চঙ্গ্যা ও পূর্ণ বিকাশের পুরস্কার অর্জন বিদ্যালয়ের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাদের এ অর্জন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবান আইডিয়াল স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। বক্তব্য প্রতিযোগিতায় ছাইলুং খুমির প্রথম স্থান অর্জন এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় লিলিশে মারমা, তুতুলি তঞ্চঙ্গ্যা ও পূর্ণ বিকাশের পুরস্কার লাভ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবে। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অর্জন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।চার শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে বান্দরবান আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।