মোহাম্মদ শাকিব হোসেন, রাঙ্গামাটিঃ পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গমতা ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হিমশিম খেতে হয় অনেক মানুষকে। এমন বাস্তবতায় রাঙামাটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
রাঙামাটি রিজিয়ন ও রাঙামাটি সিএমএইচের উদ্যোগে এবং রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৮০০ রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।
ক্যাম্পে শিশু, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক—বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। রাঙামাটি রিজিয়ন ও সিএমএইচের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি, রাঙামাটি সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসাসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মকর্তারা।
রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গমতা ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদানের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তি বোধ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজন।